সাতক্ষীরায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজির মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর মামুন গ্রেপ্তার

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার দেবহাটায় পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি মামলায় কন্টেন্ট ক্রিয়েটর, কথিত গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়দানকারী, নৌবাহিনী থেকে বরখাস্ত ও কোর্ট মার্শাল হওয়া ছাত্রলীগ কর্মী, অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে তার বাড়ি থেকে আটক করেছে পুলিশ। দেবহাটা থানার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরায় বসবাসকারী সাহেব আলীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মামলায় সাতক্ষীরা সদর থানা পুলিশ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে তার বাড়ি থেকে তাকে আটক করে। আটককৃত আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫) দেবহাটা থানার চন্ডিপুর গ্রামের প্রাক্তন শিক্ষক ও চন্ডিপুর কিন্ডারগার্টেনের পরিচালক করিম উল্লাহ ও ফরিদা পারভীনের ছেলে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদার টাকা দাবি ও আদায়ের ঘটনার আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর, কথিত গণমাধ্যমকর্মী পরিচয়দানকারী, আলোচিত মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ী কালীগঞ্জের ছাত্রলীগ নেতা নাসির উদ্দিনের সহযোগী আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও চাঁদাবাজি আইনে মামলা হয়েছে।

দেবহাটা উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে সাতক্ষীরায় বসবাসকারী সাহেব আলী বাদী হয়ে সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জিসান বাবুল, কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বাদী সাহেব আলীর দ্বিতীয় স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ওরফে মৌসুমীসহ আরও ২-৩ জনকে আসামি করে গত ১ নভেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও বনিবনা না হওয়ার কারণে ৬-৭ মাস আগে সাহেব আলী তার স্ত্রীকে তালাক দেন। তালাক দেওয়া স্ত্রী দাম্পত্য জীবনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের মেলামেশার ছবি গোপনে ভিডিও ধারণ করে রাখে। পরবর্তীতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে বাদী চেয়ারম্যানের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে চাঁদা দাবি করে ভয়ভীতি দেখায়। পরে ২০ অক্টোবর আবার ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। টাকা না দেওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর সখিপুর ইউনিয়ন ছাত্রদল নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার পক্ষে ভিডিও, স্ক্রিনশট ও অডিও রেকর্ডিং সংরক্ষিত আছে বলে বাদী দাবি করেছেন। বাদী সাহেব আলী আরও অভিযোগ করেন, প্রথমে ৫ লাখ টাকা, পরে ৩ লাখ এবং একপর্যায়ে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে সমঝোতার কথা বলে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও ব্ল্যাকমেইলিং অব্যাহত রাখে।

আব্দুল্লাহ আল মামুন নৌবাহিনী থেকে বরখাস্ত ও কোর্ট মার্শালে চাকরিচ্যুত হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে জেলাজুড়ে বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। পরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে বিভিন্ন ভিডিওর ফাঁদে ফেলে জেলাজুড়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের রাস্তার অনিয়ম-দুর্নীতির ধুয়া তুলে ঠিকাদার ও জনপদ বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়াও সমাজের বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের ছবি ব্ল্যাকমেইলিং করে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছিলেন। জেলাজুড়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, বালুমহল, নির্মাণাধীন রাস্তার ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের ফাঁদে ফেলে চাঁদা আদায় করে আসছিলেন। দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত কয়েক মাস আগে কৃষ্ণনগরে ৩ অস্ত্র ও গুলিসহ শীর্ষ ৪ ডাকাত ধরা পড়ে। ডাকাতদের কাছে অস্ত্র বিক্রেতা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা, অস্ত্র ও মাদক কারবারি নাসিরের নিকট থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে প্রভাবিত ও ঘটনা ধামাচাপা দিতে প্রতিবেদনের ওই সাংবাদিককে জড়িয়ে ডাকাতদের সঙ্গে ছবি বানিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন তার নিজস্ব আইডি থেকে প্রচার করে। উক্ত ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা আইনে কালিয়াগঞ্জ থানায় আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মাদক ব্যবসায়ী নাসিরের নামে গত ২৯ সেপ্টেম্বর কালিয়াগঞ্জ থানায় ১৫২১ নং একটি জিডি করা হয়। যেটি বর্তমানে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল সাতক্ষীরায় তদন্তাধীন ও পর্নোগ্রাফি মামলার প্রক্রিয়াধীন আছে। বর্তমানে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে থাকলেও তার সহযোগী সাজাপ্রাপ্ত পুলিশের পরোয়ানভুক্ত আসামি হয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশ একাধিকবার অভিযান চালিয়েও তাকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জামিল কবির জানান, পর্নোগ্রাফি আইনে করা মামলায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানান। তাকে ছাড়ানোর জন্য একটি রাজনৈতিক মহলকে দিনভর দৌড়ঝাঁপ করতে দেখা গেছে।