বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো সরকারি মেডিকেল কলেজের যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণের তাগিদ মন্ত্রীর

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

জাতীয় ডেস্ক: সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম যেন দ্রুত নষ্ট হয়ে না যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। সম্প্রতি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের নতুন অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তাগিদ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, বেসরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকদের চেম্বারে যেভাবে যন্ত্রপাতিগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়, সরকারি খাতের সরঞ্জামগুলোকেও ঠিক একইভাবে তাদের নির্ধারিত কার্যকাল পর্যন্ত সচল রাখতে হবে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অবকাঠামোগত ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে নিজের সর্বাত্মক চেষ্টার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এই চিকিৎসালয়টির শয্যাসংখ্যা বর্তমানের চেয়ে বাড়িয়ে এক হাজারে উন্নীত করার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কলেজটির চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত করতে ঘাটতি থাকা বিভিন্ন জরুরি সরঞ্জাম বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করবেন বলে উপস্থিত সবাইকে আশ্বস্ত করেন। অনুষ্ঠানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাছুম হাছান সভাপতিত্ব করেন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. ইউসুফ মোল্লা টিপু।

- Advertisement -

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রোগীরা যখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন, তখন তাঁরা নিজেদের শারীরিক জটিলতার কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনার প্রত্যাশা করেন। চিকিৎসকেরা যদি রোগীদের পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তাঁদের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন, তবে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আধুনিক চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি রোগীদের প্রতি সবসময় আন্তরিক ও মানবিক আচরণ প্রদর্শন করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া শুধু ওষুধপত্র দিয়েই দায়িত্ব শেষ না করে, সুস্থ থাকার বিভিন্ন উপায় এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কেও রোগীদের সচেতন করতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

খাদ্যের গুণগত মান ও পরিবেশদূষণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়ে ভেজাল খাদ্য ও পরিবেশগত অবনতি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এবং মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার ইতিমধ্যে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারলে অনেক মারাত্মাক রোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সততা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার মাধ্যমেই কেবল সাধারণ মানুষের প্রকৃত আস্থা অর্জন করা সম্ভব।

এই বিভাগের আরও সংবাদ