সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরুর বিভাজন নয়, পরিচয় হবে বাংলাদেশি: মাহদী আমিন

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানীর বনানী মাঠে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মহালয়া ১৪৩৩ উদ্‌যাপনের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা ও আনুষ্ঠানিকতা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকালে এই আয়োজনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। বনানী মাঠে পৌঁছানোর পর আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন এবং একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে মূলত শারদ উৎসবের আনন্দ ও বার্তা চারদিকে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, বর্তমান সরকার এমন একটি বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণ করতে চায় যেখানে কোনো নাগরিককে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে বঞ্চনার শিকার হতে হবে না। রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি স্তর থেকে সব ধরনের বিভাজন দূর করে প্রতিটি মানুষের সমান অধিকার, নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এবার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য সরকারি আর্থিক বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে সম্মান জানিয়ে পূজার সরকারি ছুটির মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে যাতে সবাই উৎসবের আনন্দে সমানভাবে অংশ নিতে পারেন।

- Advertisement -

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে একটি আধুনিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মহালয়া মানেই অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে নতুন আশার আলোর সঞ্চার করা এবং অন্ধকার ভেদ করে আলোর বিজয় নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী যে সংসদীয় এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেন, ঠিক সেই এলাকার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে দেশের সব মানুষ ভেদাভেদ ভুলে এক হয়ে কাজ করবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ধর্মীয় কিংবা রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে প্রতিটি নাগরিকের একমাত্র এবং সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত তাঁরা সবাই বাংলাদেশি।

দুর্গোৎসবকে আবহমান বাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার অন্যতম বড় নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করেন এই সরকারি মুখপাত্র। তিনি বলেন, আমাদের মধ্যকার বৈচিত্র্যকে দুর্বলতা না ভেবে বরং জাতীয় ঐক্যের শক্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। পরিশেষে, মহালয়ার এই শুভ সূচনা দেশের সকল মানুষের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ বয়ে আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং সনাতনী সমাজের সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন কুমার বাধে, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন কান্তি মজুমদারসহ গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক বিনয় গোপাল রায়। অতিথিরা সবাই মিলে উৎসবমুখর পরিবেশে মহালয়ার আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে এই মহোৎসব আয়োজন করার জন্য পূজা ফাউন্ডেশনের নেতৃবৃন্দকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান মাহদী আমিন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ