কাঁচি থেকে ওয়াশিং পাউডারের বোতল, এই জাদুঘরের প্রতিটি স্মারকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নোবেলজয়ীদের গল্প

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
২

ডেস্ক রিপোর্ট: সুইডেনের স্টকহোমের ঐতিহাসিক গ্যামলা স্টান এলাকায় অবস্থিত নোবেল জাদুঘর বিশ্বজুড়ে বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা ও অর্জনের এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। প্রবেশপথের শুরুতেই নোবেল পুরস্কারের একটি বিশাল রেপ্লিকা দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে, যার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য সবসময়ই ভিড় লেগে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ের নোবেল বিজয়ীদের স্মারক দিয়ে শুরু হওয়া এই জাদুঘরে প্রবেশ করলেই আবিষ্কার করা যায় নানা অজানা গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী ফ্রেড র‍্যামসডেল পুরস্কার পাওয়ার খবর যখন পান, তখন তিনি স্ত্রী ও পোষা কুকুরকে নিয়ে নেটওয়ার্কহীন এক এলাকায় হাইকিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন। তাঁকে খুঁজে না পেয়ে নোবেল কমিটি ও গণমাধ্যম যখন হন্যে হয়ে ঘুরছিল, সেই বিশেষ মুহূর্তটিকে অমর করে রাখতে জাদুঘরে ঠাঁই পেয়েছে তাঁর সেই হাইকিংয়ের বুটজোড়া।

বিজ্ঞান ও সাহিত্যের দিকপালেরা তাঁদের সৃষ্টিশীল যাত্রায় যেসব জিনিস ব্যবহার করেছেন, তার অনেক কিছুই পরম যত্নে সংরক্ষিত রয়েছে এই প্রতিষ্ঠানে। সর্বকালের অন্যতম সেরা বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের নিজের হাতে লেখা আপেক্ষিকতা তত্ত্বের দুই পৃষ্ঠার সমীকরণ দর্শনার্থীদের দারুণভাবে রোমাঞ্চিত করে। অন্যদিকে, তেজস্ক্রিয়তার কারণে মেরি কুরির ব্যক্তিগত নোটবুক ও ব্যবহার্য বস্তু ভারী ধাতু দিয়ে সিল করে মরদেহের সঙ্গে সমাহিত করা হলেও তাঁর নোটবুকের একটি সুন্দর রেপ্লিকা সেখানে রাখা হয়েছে। নোবেলজয়ী বাঙালি অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের সেই বিখ্যাত সাইকেলটিও এখানে ঝুলছে, যেটিতে চড়ে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে দারিদ্র্য ও বৈষম্যের স্বরূপ অনুধাবন করেছিলেন। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি ব্যক্তিগত নোটবুক এবং অভিজিৎ ব্যানার্জি ও মালালা ইউসুফজাইয়ের মতো ব্যক্তিত্বদের বিভিন্ন স্মারক এই প্রদর্শনীকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

- Advertisement -

জাদুঘরটির সবচেয়ে আকর্ষক দিক হলো সেখানে এমন কিছু সাধারণ জিনিসও স্থান পেয়েছে, যা প্রথম দৃষ্টিতে অবাক করার মতো হলেও গভীর তাৎপর্য বহন করে। অর্থনীতিতে নোবেলজয়ী দুই গবেষক গুইডো ইমবেনস ও জশুয়া অ্যাংগ্রিস্টের লন্ড্রিতে কাপড় ধোয়ার সময়কার আলাপচারিতা তাঁদের গবেষণাকে সফল করেছিল, যার স্মারক হিসেবে রয়েছে একটি মামুলি ওয়াশিং ডিটারজেন্টের বোতল। একইভাবে, জার্মান সাহিত্যিক হার্টা মুলার খবরের কাগজ ও বইয়ের পাতা কেটে কোলাজ করে কবিতা লেখার কাজে যে নখ কাটার কাঁচি ব্যবহার করতেন, তাও সযত্নে প্রদর্শিত হচ্ছে। রসায়নবিদ কার্ট ভুথরিশের সেই স্মরণীয় বেল্ট কিংবা রজার মায়ারসনের শৈশবকে আলোড়িত করা বই—প্রতিটি নিদর্শনের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে একেকটি আকর্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস।

বিজ্ঞান, সাহিত্য কিংবা অর্থনীতির প্রতি সামান্য আগ্রহ থাকলেই স্টকহোমের এই জাদুঘরটি যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন জয় করবে। দর্শনার্থীদের সুবিধার জন্য প্রতিটি স্মারকের সামনে ডিজিটাল স্ক্রিন রাখা হয়েছে, যেখানে সুইচ টিপলেই সেটির পেছনের চমকপ্রদ ইতিহাস জানা সম্ভব হয়। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনগুলোতে খোলা থাকা এই জাদুঘরে প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রবেশমূল্যের ব্যবস্থা থাকলেও আঠারো বছরের কম বয়সীদের জন্য প্রবেশ সম্পূর্ণ অবৈতনিক। এছাড়া দর্শনার্থীরা এখানকার সুভেনির শপ থেকে নোবেল স্মারক সংবলিত নানা সৌভেনির কিংবা বিস্ত্রো ক্যাফেতে নোবেল চকলেট ও আইসক্রিমের স্বাদ নিতে পারেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ