বোরহানউদ্দিনে প্রকাশ্যে দেশি অস্ত্রসহ যুবলীগ সন্ত্রাসী রফিকের ভূমি জবরদখল,থানায় মামলা।

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩১

ক্রাইম রিপোর্টঃ- বোরহানউদ্দিন কুঞ্জের হাট এলাকায় যুবলীগ নেতা রফিকের অত্যাচারে অতিষ্ঠ স্থানীয় এলাকাবাসী। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত আওয়ামী সরকারের আমল থেকেই এলাকায় বহু অসহায় মানুষের জমি দখল করে রাখেন এই ভূমিদস্যু রফিকুল ইসলাম ওরফে পিস্তল রফিক। অভিযুক্ত রফিকের বিরুদ্ধে বোরহানউদ্দিন থানায় বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। জানা যায়, ভোলার আলোচিত ছাত্রী অপহরণ মামলায় RAB-পুলিশের যৌথ অভিযানে গ্রেফতার হয় অভিযুক্ত ভূমিদস্যু রফিক এবং ছাত্রী অপহরণের দায়ে তিন মাস জেল হাজতেও ছিলেন অভিযুক্ত রফিক। কুঞ্জের হাট এলাকার ক্রয় সূত্রে এবং রেকর্ড সূত্রে ১২ শতাংশ জমির মালিক থাকিয়া প্রায় ২০ বছর যাবত ভোগ দখলে রয়েছে উক্ত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা আওলাদ হোসেন চৌধুরী । দীর্ঘদিন যাবত ওই জমি থেকে ভূমির প্রকৃত মালিক আওলাদ হোসেন চৌধুরীকে বেদখল করার পায়তারা চালিয়ে আসছে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওরফে পিস্তল রফিক।
কোন রকম আইন আদালত মামলা-মোকদ্দমা না থাকার পরেও হঠাৎ গত ১৩ মে ২০২৬ইং তারিখ আনুমানিক সকাল ৮টার দিকে ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন চৌধুরীর কবরস্থানের জন্য নির্ধারিত ওই জমিটি জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওরফে পিস্তল রফিক। পরবর্তীতে ওই সময় দখলে বাধা প্রদান করিলে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ ভূমির প্রকৃত মালিক আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের এলোপাথাড়ি মারধর করার চেষ্টা করেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি ধামকি প্রদান করেন। পরক্ষণে স্থানীয় প্রতিবেশীগণ এসে ভূমির প্রকৃত মালিক আওলাদ হোসেন চৌধুরী ও তার পরিবারের লোকজনদের উদ্ধার করেন। এ বিষয়ে ভূমির প্রকৃত মালিক আওলাদ হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।বিষয়টি নিয়ে বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট জানাতে চাইলে তিনি জানান, উক্ত অভিযোগটি আমলে নিয়ে থানার এস আই আলামিনকে ঘটনাটি তদন্তের জন্য দ্বায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, এবং শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে লাইন কেটে দেন।
উল্লেখ, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় অসংখ্য ভূমি জবর দখলের অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তার পূর্বের স্ত্রী নিলুফার পিতা অর্থাৎ অভিযুক্ত রফিকের শ্বশুরকে চাপ দিয়ে যৌতুক হিসাবে ১০ শতাংশ জমি ক্রয় করান। পরবর্তীতে ওই স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর করে দুই সন্তানসহ তালাক প্রদান করেন । উক্ত বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতে এখনো মামলা চলমান রয়েছে এবং পূর্বের স্ত্রীর জমিও জবরদখল করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেন অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের পূর্বের স্ত্রী নিলুফা আক্তার। ব্যক্তিগত জীবনে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম ওরফে পিস্তল রফিক ৩ বিবাহ করেন। ভূমি জবরদখল, একাধিক বিবাহসহ নানা অপকর্ম নিয়ে চলছে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন।

বিস্তারিত থাকছে দ্বিতীয় পর্বে।।

- Advertisement -

এই বিভাগের আরও সংবাদ