ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যে অশান্তির মূল হোতা বলল মিসর, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তান

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতার প্রধান উৎস হিসেবে ইসরাইলের অবৈধ দখলদারত্বকে দায়ী করেছে তুরস্ক, সৌদি আরব, মিসর ও পাকিস্তান। সম্প্রতি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠক শেষে চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই কঠোর অবস্থান জানান। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের অবহেলার তীব্র সমালোচনা করা হয় এবং অবিলম্বে একটি বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। মন্ত্রীরা স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, ইসরাইলের আক্রমণাত্মক ও সম্প্রসারণবাদী নীতিগুলো কেবল ওই অঞ্চলেই নয়, বরং গোটা বিশ্বেই অবিচার ও সংঘাতের পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করছে।

বৈঠক শেষে প্রকাশিত ওই যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নিজেদের অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ১৯৬৭ সালের সীমানাকে ভিত্তি ধরে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে এই চার দেশ। প্রস্তাবিত এই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম, যা দীর্ঘকাল ধরে ফিলিস্তিনি সংকটের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। কূটনৈতিক এই জোটে অংশ নেওয়া দেশগুলো মনে করে, ফিলিস্তিনের সমস্যার ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্পূর্ণ অসম্ভব।

- Advertisement -

আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক সামরিক তত্পরতা এবং উত্তেজনাকর আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে এই বৈঠকে। বিশেষ করে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা হুথিদের সব ধরনের সামরিক সংঘাত থেকে সরে আসার তাগিদ দেন। তারা মনে করেন, চলমান সংঘাতের সামরিক সমাধান সম্ভব নয়, তাই সকল পক্ষকে অবিলম্বে রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে ফিরে আসতে হবে। এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

পাশাপাশি, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এই চার রাষ্ট্র। যেকোনো ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে কূটনীতি ও সংলাপের পথ বেছে নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও নিরাপদ নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে পারে এমন যেকোনো উসকানিমূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মন্ত্রীরা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ