দেশে দেশে কেন বিদ্রোহ করছে জেন-জি
ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশ ও নেপাল পেরিয়ে বর্তমানে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে তরুণদের নেতৃত্বে ব্যাপক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এই প্রজন্মের তরুণদের আন্দোলনকে বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে জেন-জি বিক্ষোভ। মূলত বর্তমান প্রজন্মকে সরাসরি প্রভাবিত করছে এমন নানা সামাজিক সংকট, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং কাঠামোগত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাজপথে প্রতিবাদ জানাচ্ছে এই বয়সের তরুণেরা। দেশভেদে স্থানীয় সমস্যাগুলোর রূপ আলাদা হলেও এসব আন্দোলনের মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তীব্র বৈষম্য ও বঞ্চনা।
ফ্রান্স ও স্পেনের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোতে বিভিন্ন সংকটের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে জনপদ। ফ্রান্সে অপর্যাপ্ত অর্থায়নের কারণে ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে সম্প্রতি কয়েক লাখ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। অন্যদিকে স্পেনে তীব্র আবাসন সংকট এবং বয়স্ক নাগরিকদের জোর করে উচ্ছেদ করার ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত স্পেনের প্রধানমন্ত্রী আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন। এছাড়া ভারত, ইতালি, মরক্কো ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতেও তরুণ প্রজন্ম বিভিন্ন সরকারি নীতির বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দুই হাজার আট সালের অর্থনৈতিক মন্দার পর থেকেই ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আয় ও সম্পদের বৈষম্য নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একসময়ে কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগুলোর সক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার মতো মৌলিক খাতগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে যাদের আর্থিক সামর্থ্য আছে তারা সেবা কিনতে পারলেও সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশেষ করে কর্মজীবন শুরুর আগেই তরুণ প্রজন্মের বড় একটি অংশ শিক্ষাব্যবস্থায় ধস এবং মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নানা সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে।
এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জলবায়ু পরিবর্তন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। প্রযুক্তি খাতে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে এবং তরুণদের আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে বাড়িভাড়ার পেছনে। রাষ্ট্র পরিচালনায় নানা ব্যর্থতা এবং সরকারি সেবার চরম অবনতির ফলে তরুণদের মনে এই বিস্ফোরণমুখী ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেক রাষ্ট্রই এই জনরোষ মোকাবিলায় দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে, যা পরিস্থিতিকে শান্ত করার বদলে কোথাও কোথাও আরও বেশি উসকে দিচ্ছে।
