৪৪২ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ, আজ একনেকে উঠবে প্রস্তাব
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে সাড়ে চারশ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি আধুনিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই বড় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, একনেক সভায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রসহ মোট তেরোটি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের জন্য তোলা হয়। এসব খাতে মোট ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু রামপালের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রায় দুই হাজার পাঁচশ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করবে বলে জানা গেছে।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়, এর জন্য নতুন করে কোনো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন পড়বে না। এর আগে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের জন্য যে জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, তার অব্যবহৃত অংশেই এই সৌরবিদ্যুৎ প্যানেলগুলো স্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এবং দেশের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এদিকে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে নতুন ত্রিশটি মিটারগেজ ইঞ্জিন বা লোকোমোটিভ যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এজন্য প্রায় দুই হাজার সাতশ কোটি টাকার একটি আলাদা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনগুলোর কারণে রেল চলাচলে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, এই নতুন ইঞ্জিনগুলো যুক্ত হলে তা সহজেই কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
