অনেক উঁচু থেকে পিঁপড়া ফেলে দিলে মরে না কেন
ইপেপার / প্রিন্ট
ফিচার ডেস্ক: কোনো উঁচু ভবনের ছাদ থেকে একটি পিঁপড়াকে নিচে ফেলে দিলে তার বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। মাটিতে পড়ার পর সে কোনো আঘাত না পেয়েই স্বাভাবিকভাবে হাঁটা শুরু করতে পারে, যা সাধারণ মানুষের কাছে বেশ কৌতূহলোদ্দীপক মনে হতে পারে। অথচ একই উচ্চতা থেকে ভারী কোনো বস্তু নিচে ফেললে তা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়। এই ঘটনার পেছনে কেবল পিঁপড়ার কম ওজনের বিষয়টিই একমাত্র কারণ নয়, এর সঙ্গে গভীর পদার্থবিজ্ঞান ও গণিতের জটিল হিসাব জড়িত রয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, কোনো প্রাণীর শারীরিক মাত্রা বা আকার যদি দশগুণ ছোট করা হয়, তবে তার ওজন এক হাজার ভাগের এক ভাগে নেমে আসে। তবে এর বিপরীতে ওই প্রাণীর শরীরের পৃষ্ঠতলের ক্ষেত্রফল কমে মাত্র একশ ভাগের এক ভাগ। এই ভৌত পরিবর্তনের কারণে ছোট পোকামাকড় বা কীটপতঙ্গ যখন ওপরের দিক থেকে নিচে পড়তে থাকে, তখন বাতাসের বাধা তাদের ওজনের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।
পড়ার সময় বাতাসের এই প্রবল প্রতিরোধ শক্তির কারণে ছোট প্রাণীদের ওপর নিচের দিকে পড়ার বেগ বা ধাক্কা অত্যন্ত সীমিত থাকে। উঁচু থেকে পড়ার সময় তাদের ওপর যে পরিমাণ ঘর্ষণ ও বায়ুপ্রবাহ কাজ করে, তা তাদের মাটিতে নিরাপδ নামিয়ে আনতে সাহায্য করে। এই প্রাকৃতিক সুরক্ষার কারণেই সামান্য আঘাতও না পেয়ে তারা অনায়াসে বেঁচে যায় এবং গন্তব্যে হেঁটে চলে যেতে পারে।
আকারের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে এই পতনের পরিণতি একেক প্রাণীর ক্ষেত্রে একেক রকম হয়ে থাকে। যেমন ত্রিশ তলা কোনো ভবনের ছাদ থেকে একটি তেলাপোকা পড়ে গেলেও নরম মাটিতে সে বেঁচে যেতে পারে, তবে একটি মাঝারি আকৃতির ইঁদুর মারা যেতে পারে। অন্যদিকে মানুষের ক্ষেত্রে বড় ধরনের হাড় ভাঙার মতো দুর্ঘটনা ঘটে এবং ঘোড়ার মতো ভারী প্রাণী পড়লে তার অবস্থা সম্পূর্ণ ভিন্ন ও মারাত্মক হতে পারে।
