দারিদ্র্যের ফিরে আসা: উন্নয়নের গল্পে ফাঁক কোথায়

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
০

অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামগ্রিক উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ঋণদাতা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিগত চার বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান নিম্নমুখী হয়েছে এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে দারিদ্র্যের হার। এই সময়ের ব্যবধানে দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় নেতিবাচক বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উন্নয়নের নানা সূচকে সাফল্যের দাবি করা হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে তার কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির কারণে সাধারণ মানুষের আয় ও সঞ্চয় মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে শুধু যারা নতুন করে গরিব হয়েছেন তারাই নন, বরং আরও বিশাল একটি জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার ওপর তীব্র নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

- Advertisement -

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রায় সোয়া ছয় কোটি মানুষ চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সামান্য কোনো অপ্রত্যাশিত সংকট, অসুস্থতা কিংবা আয়ের উৎস হারিয়ে গেলে এই বিশাল জনগোষ্ঠী যেকোনো মুহূর্তে চূড়ান্ত দারিদ্র্যের মধ্যে পতিত হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথকে আরও বেশি অনিশ্চিত করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তি ও সুষম বণ্টনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে বলেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাচ্ছে না। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সংকুচিত হওয়ার কারণে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ টিকে থাকার লড়াইয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। এই পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি আরও বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা।

এই বিভাগের আরও সংবাদ