শ্যামনগরে জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

 

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধিঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে মার্কেট সহ জমি দখলের চেষ্টা, সীমানার ঘেরাবেড়া ভাঙচুর, দোকানপাট লুটতরাজ ও জোর পুর্বক মার্কেট সম্মুখে রেকর্ডীও সম্পত্তির উপর হাটবাজারের খাজনা আদায় সহ প্রবাসী মো: মনির হোসেন এর পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে খুন জখমের মতো হুমকি দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী প্রবাসী শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। তিনি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত সহ দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসী ও তার পরিবার।

শনিবার ১০ অক্টোবর সকালে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপজেলার ইছাকুড় গ্রামের প্রবাসী মোঃ মনির হোসেন, কালিগঞ্জ উপজেলার উদয়মারী গ্রামের মৃত হরিপদ মন্ডলের স্ত্রী নমিতা বালা এবং পুর্বনারায়নপুর গ্রামের মৃত রবিন্দ্রনাথ মন্ডলের স্ত্রী রীনা রানী।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্রবাসী মোঃ মনির হোসেন বলেন, উপজেলার ইছাকুড় মৌজার খানপুর বাজার সংলগ্ন এস এ ১৮৪ নং খতিয়ানে তার নিজ, স্ত্রী ও তার ভাইয়ের ক্রয়কৃত স্বনামে রেকর্ডীয় ৬২শতক জমিতে মার্কেট (দোকানঘর) তৈরি করে ভাড়া দিয়ে এবং অন্য জায়গায় ঘেরাবেড়া দিয়ে দীর্ঘদিনের ভোগদখল করছি। এমতাবস্থায় গত গত ৩০ আগষ্ট তারিখে আমার ভোগদখলী সম্পত্তিতে ইছাকুড় গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদ গাজীর পুত্র মতিন গাজী, মৃত নুরুল শেখের পুত্র আঃ রশিদ, নুরা হাওলাদারের পুত্র শফিকুল ইসলাম, নুরো গাজীর পুত্র আকবর আলী, করিম গাইনের পুত্র রুহুল আমিন গাইন, তফিল উদ্দিনের পুত্র রাজু আহমেদ, সৈয়দ মোবারক হোসেনের পুত্র সৈয়দ শহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে একত্রে জোর পুর্বক সিমানা ঘেরাবেড়া ভাংচুর, লুটতারাজ সহ হাটবাজারের খাজনাপাতি উত্তলন করার প্রতিবাদ করলে আমার ও আর পরিবারের সদস্যদের প্রকাশ্যে সম্মানহানী করে। মারপিট করতে উদ্ধত হয় একপর্যায়ে খুন জখম করার হুমকী প্রদর্শন করেন। স্থানীয় জবর দখলের চেষ্টা করে । জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। ওই জমির বিভিন্ন দলিল, খতিয়ান ও রেকর্ডের ভিত্তিতে একাধিক ব্যক্তি মালিকানা দাবি করছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট জমির পূর্ববর্তী এস এ রেকর্ডীয় মালিকদের মৃত্যুর পর তার ওয়ারেশ ছিলেন ৭কন্যা তাদের মধ্যে ৬জন নিজেরদের সম্পত্তি রীনা বালাকে দানপত্র দলিলের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালে দুই দফায় হস্তান্তর করেন। অতপর রীনা বালা নিজ নামে উক্ত সম্পত্তি রেকর্ড করেন ও ভোগদখল করতে থাকেন। এরপর ২০০৫ সালে রীনা বালার নিকট হতে আমি, আমার স্ত্রী ও ভাই দু দফায় উক্ত সম্পত্তি ক্রয় করে নিজেদের নামে ৬২ শতক জমি রেকর্ড করে আমারা শান্তিপুর্ন ভোগদখল করি।

তিনি আরও জানান, জমি জবর দখল, সম্মানহানী ও খুন জখমের হুমকির বিষয়ে শ্যামনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, যার নম্বর ১৩৪৪। পাশাপাশি বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষ জমিতে অনধিকার প্রবেশ এবং দোকানপাট ও সীমানা-সংক্রান্ত বিরোধে জড়াচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রবাসী মনির হোসেন প্রশাসনের কাছে তাঁর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্মানহানী এবং ভোগদখলীয় সম্পত্তি যাহাতে জবর দখল না হয়। এছাড়া অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

ছবিঃ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করছেন প্রবাসী মোঃ মনির হোসেন।