শ্যামনগরের চাউলখোলায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের দাবি

 

আব্দুল আলিমঃ শ্যামনগরঃ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ১১নং পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বেড়িবাঁধ ও চলাচলের উপযোগী রাস্তার অভাবে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া হলেও গ্রামটিতে এখনো একটি ইটের রাস্তাও নির্মাণ করা হয়নি।

স্থানীয়দের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) বেড়িবাঁধের ওপরের কাঁচা রাস্তা। তবে দীর্ঘদিন প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ভেঙে ও সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন গ্রামের মানুষ।

এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর জনপ্রতিনিধি পরিবর্তন হয়েছে এবং বিভিন্ন সময়ে রাস্তা ও বেড়িবাঁধ উন্নয়নের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থায়ী ও দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়নি। সাময়িকভাবে মাটি ফেলে সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান দিতে পারছে না বলে দাবি তাদের।

স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় এলাকার মানুষের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে চাউলখোলা এলাকার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ শক্তিশালী ও টেকসইভাবে নির্মাণের পাশাপাশি বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলের জন্য স্থায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হোক।

তারা বলেন, আমরা ব্যক্তিগত ত্রাণ বা সাময়িক সহযোগিতা চাই না। আমাদের দাবি শক্তিশালী ও টেকসই বেড়িবাঁধ এবং গ্রামের মানুষের জন্য স্থায়ী চলাচলের রাস্তা। বছরের পর বছর শুধু আশ্বাস নয়, এবার আমরা বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখতে চাই।

এলাকাবাসীর ভাষ্য, বর্ষাকালে কাঁচা রাস্তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে পড়ায় স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ এবং জরুরি প্রয়োজনে যাতায়াতকারীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়।

চাউলখোলা গ্রামের বাসিন্দারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং জনপ্রতিনিধিদের কাছে দ্রুত প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, সাময়িক সংস্কারের পরিবর্তে পরিকল্পিতভাবে শক্তিশালী বেড়িবাঁধ ও স্থায়ী রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এ দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হবে।

এলাকাবাসীর দাবি—ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চাই; আশ্বাস নয়, চলাচলের উপযোগী স্থায়ী রাস্তা চাই।