বিবিএসের প্রতিবেদন: খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়াল ৭.২২%, আরও বাড়ার শঙ্কা

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে টানা দুই মাস কিছুটা কমার পর আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিক সাধারণ মূল্যস্ফীতি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ মাসিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। চলতি অর্থবছরের তৃতীয় মাস সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশে। এর আগে আগস্ট ও জুলাই মাসে এই হার যথাক্রমে ৮ দশমিক ২৬ ও ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ ছিল। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পেছনে মূল্যস্ফীতির এই ঊর্ধ্বগতি প্রধান ভূমিকা রাখছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানত খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার কারণে সার্বিক সূচকে এই নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। পর্যালোচিত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৭ দশমিক ২২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের মাসে ৭ দশমিক ০২ শতাংশ ছিল। তবে এর বিপরীতে খাদ্যবহির্ভূত খাতের মূল্যস্ফীতি সামান্য কমে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশে নেমেছে। এদিকে সাধারণ মানুষের মজুরি বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম থাকায় সীমিত আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে। সেপ্টেম্বরে জাতীয় পর্যায়ে গড় মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক ৯০ শতাংশ, যা আগের মাসে আট শতাংশের বেশি ছিল।

মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামীণ জনপদে এর প্রভাব কিছুটা বেশি অনুভূত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ, যেখানে শহর অঞ্চলে এই হার ছিল ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। এছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খাত যেমন তৈরি পোশাক, জুতো, গৃহায়ন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতে মূল্যবৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশ চড়া ছিল। এর মধ্যে পোশাক ও পাদুকা খাতে মূল্যস্ফীতি ছাড়িয়ে গেছে দশ শতাংশের ঘর।

অর্থনীতিবিদদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের কারণে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান র‌্যাপিডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক মনে করেন, জ্বালানি তেলের বর্ধিত দামের পূর্ণ প্রভাব পরবর্তী মাসগুলোর হিসাবে আরও জোরালোভাবে দৃশ্যমান হতে পারে। ফলে আগামীতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমদানি বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।