অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন পর কিছুটা নিম্নমুখী থাকা মূল্যস্ফীতির সূচক ফের ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরে গেছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) মূল্যস্ফীতির এই হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে, যা দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকারি এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে গত সেপ্টেম্বর মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার সামান্য বেড়ে আট দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
চলতি অর্থবছর শুরু হওয়ার পর থেকেই মূল্যস্ফীতির হার ক্রমান্বয়ে কমতির দিকে ছিল, যা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছিল। অর্থবছরের সূচনা মাস জুলাইয়ে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছিল আট দশমিক ৩২ শতাংশে, যা ছিল বিগত আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন একটি স্তর। এরপর আগস্ট মাসে এই সূচক আরও কিছুটা হ্রাস পেয়ে আট দশমিক ২৬ শতাংশে এসে দাঁড়ায়। ফলে অর্থনীতিবিদরা আশা করেছিলেন যে মূল্যস্ফীতির এই নিম্নমুখী ধারা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে এবং সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পাবে।
তবে সেপ্টেম্বর মাসে এসে মূল্যস্ফীতির সেই ইতিবাচক ধারায় বড় ধরনের ছেদ পড়েছে এবং সূচক আবারও উল্টো পথে হাঁটা শুরু করেছে। এক মাসের ব্যবধানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক শূন্য আট শতাংশীয় পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে আট দশমিক ৩৪ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচ এবং খাদ্যপণ্যের বাজারদর বেড়ে যাওয়ায় মূলত এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে মাসের শেষভাগে এসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সুদূরপ্রসারী ধাক্কায় মূল্যস্ফীতির কমার গতি হঠাৎ থেমে গেছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানো হয়েছিল, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থাপনায়। তার মতে, জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির এই নেতিবাচক প্রভাব কেবল সেপ্টেম্বরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং আগামী কয়েক মাস ধরে বাজারে এর ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে কমার কোনো জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন না এই অর্থনীতিবিদ।