কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ‘উদ্যোগ’: উদ্যোক্তা তৈরির কর্মসূচি ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে

অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ‘উদ্যোগ’ নামের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক ধারণাগুলোকে চিহ্নিত করা এবং সেগুলোতে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রতিবছর অন্তত পাঁচ হাজার তরুণকে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রতিটি ক্ষুদ্র উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সেখানে অন্তত তিন থেকে পাঁচজন মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দেশের সার্বিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে প্রথম পর্যায়ে দেশের আটটি জেলার ৬৪টি উপজেলায় আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই আবেদন প্রক্রিয়ায় তরুণদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। নির্ধারিত এই আট জেলায় সব মিলিয়ে ১৮ হাজার ৪৪৪টি আবেদন জমা পড়েছে যা তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহকেই ফুটিয়ে তোলে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া পাওয়া গেছে নেত্রকোনা জেলায়, যেখানে ৫ হাজার ৩৫১ জন তরুণ আবেদন করেছেন। এছাড়া রংপুর, নওগাঁ, ঝিনাইদহ, হবিগঞ্জ, ভোলা, মানিকগঞ্জ এবং ফেনী জেলা থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়িক প্রস্তাব জমা পড়েছে।

প্রাথমিক ধাপের সফল সমাপ্তির পর এবার কর্মসূচিটির পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দেশের বাকি ৫৬টি জেলায় শুরু হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় ধাপের আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়া। এই ধাপে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের আগ্রহী তরুণরাও নিজেদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। গত ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির সার্বিক রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছিল। এরপর গত ১৩ সেপ্টেম্বর এর আনুষ্ঠানিক নীতিমালা জারি করা হয় এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়।

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত উদ্যোক্তারা তাঁদের ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য আকর্ষণীয় আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন লাভ করতে পারবেন। এর মধ্যে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সহজ শর্তের ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অনুদান পাওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বিশেষ এই ঋণের ক্ষেত্রে গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার মাত্র চার থেকে সাত শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তরুণ উদ্যোক্তাদের বাড়তি কোনো সহায়ক জামানত ছাড়াই এই ঋণ দেওয়া হবে, যা তাঁদের ব্যবসা শুরুর পথকে আরও সুগম করবে।