এনবিআরের ঢালাও ব্যাংক হিসাব জব্দে ব্যবসায়ী মহলে উৎকন্ঠা
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: তৈরি পোশাকশিল্প খাতে চলমান অস্থিরতার পেছনে উসকানিদাতা সন্দেহে দেশের দুই শতাধিক ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ ও তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল পৃথকভাবে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে। তবে এই তালিকায় অনেক শীর্ষস্থানীয় ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির ব্যবসায়ীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পুরো ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।
তালিকায় এমন বেশ কিছু নাম রয়েছে যাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের দূরতম কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। উদাহরণস্বরূপ শেলটেক গ্রুপ ও এনভয় লিগ্যাসি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং তাঁর মায়ের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে, যাঁদের পারিবারিক ঐতিহ্য ও ব্যবসায়িক সুনাম দীর্ঘদিনের। অতীতে ভিন্ন কারও সঙ্গে ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব থাকার কারণে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাঁদের নামও এই তালিকায় চলে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।
এ ধরনের ঢালাও পদক্ষেপের ফলে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের অর্জিত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা। ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রশাসক ফজলুল হক জানিয়েছেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়া নিরপরাধ ও প্রকৃত ব্যবসায়ীদের এভাবে হয়রানি করা হলে তা শিল্প খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বয়ে আনবে। কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন, যেকোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে যথাযথ তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। নিরপরাধ উদ্যোক্তারা এই পরিস্থিতির শিকার হলে সার্বিক ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে ব্যবসায়ী নেতারা সরকারের উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নিচ্ছেন।
