পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে চান পোশাকশিল্পের মালিকেরা
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও তৈরি পোশাক খাতের সাম্প্রতিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন পোশাকশিল্পের মালিকরা। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি ও শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন শিল্পোদ্যোক্তা এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেন। বৈঠকে মূলত বর্তমান সময়ে কারখানার নিরাপত্তা এবং স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম বজায় রাখার বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। শিল্পমালিকরা জানান, বর্তমান অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে কারখানা চালানো অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে উদ্যোক্তারা বাধ্য হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত বা কারখানা বন্ধ রাখতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটানোর জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, শ্রমিক ও কারখানার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন বজায় রাখা সম্ভব হবে না, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
শিল্পমালিকদের এমন উদ্বেগের প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে তুলতে আগামী রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য শিল্পমালিকদের অনুরোধ জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কারখানার নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে এবং খুব শীঘ্রই পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, দেশের রপ্তানি আয়ের সবচেয়ে বড় জোগানদাতা এই পোশাক খাতের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করায় সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মালিকপক্ষ ও সরকারের মধ্যেকার এই আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। এখন সংশ্লিষ্ট সবার নজর রয়েছে রবিবারের পরিস্থিতির ওপর, যার ওপর নির্ভর করছে পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা ও কারখানার কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়টি।
