ফ্যামিলি কার্ড শুমারির আবেদনের ফরমে বিএনপি নেতার সুপারিশ
ইপেপার / প্রিন্ট
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিএনপি দলীয় নেতার সুপারিশ নিয়ে এলাকায় তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে গণনাকারী ও সমন্বয়কারী পদের আবেদন ফরমে বিধি অমান্য করে হরিপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন সরাসরি তার দলীয় পরিচয়ের সিল স্বাক্ষর ব্যবহার করে সুপারিশ প্রদান করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সরকারি একটি প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দলীয় পদের এমন প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ আবেদনকারীরা।
হরিপুরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্প্রতি জনবল নিয়োগের উদ্দেশ্যে আবেদনপত্র আহবান করা হয়। সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী এ ধরনের নিয়োগ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, মেধাভিত্তিক এবং প্রশাসনিক নীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হওয়ার কথা। শুমারির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৪ঠা আগষ্ট হরিপুর উপজেলা পরিষদ হলরুমে।
এদিকে জমা পড়া আবেদনপত্রের একাংশে দেখা যায়, উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন স্বাক্ষরিত সুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে। তিনি তার স্বাক্ষর ও সিলের উপরে লিখেছেন ‘‘জোড় সুপারিশ করা হলো”।সরকারি কোনো ফরম বা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে রাজনৈতিক পরিচয়ে সুপারিশ গ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকা সত্ত্বেও, এমন সুপারিশে নিয়োগের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি প্রায় একাধিক আবেদন ফরমে এমন সুপারিশ করেছেন।
ঘটনাটি প্রকাশ হওয়ার পর থেকে হরিপুর উপজেলার সাধারণ মানুষ ও আবেদনকারীদের মধ্যে নানা মুখী আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একটি স্পর্শকাতর সরকারি তথ্য সংগ্রহ ও শুমারি কার্যক্রমে প্রথম থেকেই রাজনৈতিক প্রভাব থাকলে কাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করছেন সচেতনমহল।
সাধারণ মেধাভিত্তিক আবেদনকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন যে, দলীয় সুপারিশের কারণে যোগ্য প্রার্থীরা তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং দলীয় প্রভাবে স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই আবেদনকারীসহ সচেতনমহল দাবী করেছেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আইন অনুসরণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক উপধ্যক্ষ জামাল উদ্দীন গতকাল শনিবার মুঠোফোনে জানালেন, দলীয় চাপে এগুলো সুপারিশ দিতে হয়েছে। সরকারী আবেদন ফরমে এ ধরনের সুপারিশ করতে পারবেন কিনা প্রশ্নে বলেন? আসলে দলীয় চাপে সুপারিশ করতে হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন তাদের নিয়ম মেনেই নিয়োগ পক্রিয়া সম্পর্ণ করবেন বলে তিনি জানান।
হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) চন্দন কর জানালেন, এ ধরনের সুপারিশ গ্রহণযোগ্য নই। মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। সরকারী ফরমে রাজনৈতিক সুপারিশ যে ফরমে হলো সেগুলো এখন কি হবে প্রশ্নে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক গতকাল শনিবার মুঠোফোনে বলেছেন, কোন সুপারিশ দিয়ে নিয়োগ হবে না। এটি সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্প, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই নিয়োগ হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
