৩০ কেজি চালের বদলে কেউ পেলেন ৪৫০ টাকা, কেউ কোনোটিই পাননি

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

জাতীয় ডেস্ক: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির নতুন কার্ড পেয়েও চাল পাননি অনেক উপকারভোগী। ডিলারের কাছে চাল নিতে গিয়ে কাউকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে, আবার কাউকে ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে নামমাত্র টাকা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমন অনিয়মের শিকার হয়ে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং প্রতিকার দাবি করেছেন। সরকারি এই সহায়তার চাল বিতরণে এমন অব্যবস্থাপনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কার্ডধারীদের পূর্ণাঙ্গ চাল পাওয়ার কথা থাকলেও ডিলার ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে।

মোকামতলার গণেশপুর পূর্বপাড়ার বাসিন্দা রওশন আরা নতুন কার্ড হাতে পাওয়ার পর চাল সংগ্রহের জন্য একাধিক ডিলারের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও ব্যর্থ হন। মুরাদপুর ও গোডাউন রোডসহ কয়েকটি এলাকার ডিলারের কাছে গেলেও কেউ তাঁকে চাল দিতে পারেননি। একইভাবে জরিনা বেগম ও শাহিদা বেগম নামের অন্য দুই কার্ডধারীও চাল না পেয়ে ডিলারদের কাছ থেকে নানা টালবাহানার শিকার হয়েছেন। ডিলাররা তাঁদের চাল না দিয়ে উল্টো পরবর্তী মাসে আসার কথা বলে ফিরিয়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাল না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এসব অসহায় মানুষ।

- Advertisement -

এদিকে চাল না দিয়ে নগদ টাকা দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে ডিলারের বিরুদ্ধে। মুরাদপুর এলাকার ডিলার মিজানুর রহমানের ডিলারশিপে চাল নিতে যাওয়া এক কার্ডধারীকে ৩০ কেজি চালের পরিবর্তে মাত্র সাড়ে চার শ টাকা দেওয়া হয়। ওই ডিলারের অধীনে মোট সাত শতাধিক কার্ডধারী রয়েছেন, যার মধ্যে দুই শতাধিক নতুন কার্ডধারী। ডিলার মিজানুর রহমান দাবি করেছেন যে সব কার্ডধারীর চাল তাঁর গুদামে পৌঁছেছিল। তবে নির্ধারিত তারিখের পরে আসা লোকজনকে চালের বদলে টাকা দেওয়ার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন এবং সবার সম্মতিক্রমেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে ডিলার চাল কিংবা টাকা না পাওয়া ব্যক্তিদের বরাদ্দের খাদ্যপণ্য কোথায় গেল, তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। মোকামতলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফাহিমা বেগম জানিয়েছেন যে ডিলারদের কিছু অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে এই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে বৈঠক করা হয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ফারুক হোসেন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে চালের বদলে টাকা দেওয়ার কোনো আইনি বিধান নেই। তাঁর দপ্তরে এখনো এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি, তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

এই বিভাগের আরও সংবাদ