শারদীয় দুর্গোৎসবে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার দাবি

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৪

জাতীয় ডেস্ক: আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হতে পারে, সেই লক্ষ্য নিশ্চিত করতে দেশের বিভিন্ন উপজেলায় প্রশাসনের উদ্যোগে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি সিলেট, ফরিদপুর, মুন্সীগঞ্জ, বরগুনা, টাঙ্গাইল, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, কক্সবাজার, যশোর, ভোলা ও ঝিনাইদহসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই সভাগুলোর আয়োজন করা হয়। সংশ্লিষ্ট এলাকার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এসব বৈঠকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পুলিশ কর্মকর্তা, পূজা উদ্‌যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষ অংশ নেন। বৈঠকে উৎসবের দিনগুলোতে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং মণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসব সফল করতে প্রশাসন ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয় সভায়।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরীনা আক্তার, যেখানে এবারের পূজায় উপজেলার প্রায় বিয়াল্লিশটি মণ্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য জানানো হয়। অন্যদিকে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা ও বোয়ালমারী উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসনের আয়োজনে পৃথক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ এবং সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু। ওই সভায় লৌহজং উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে সরকারি আর্থিক অনুদান প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা আয়োজকদের মধ্যে বেশ উৎসাহের সৃষ্টি করেছে।

- Advertisement -

বরগুনার আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা বক্তব্য রাখেন। টাঙ্গাইলের ঘাটাইল ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলালেও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অনুরূপ প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়। মৌলভীবাজারের রাজনগরে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় দুর্গাপূজার প্রস্তুতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং কক্সবাজারের রামুতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমানের পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এসব বৈঠকে পূজা চলাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যশোরের চৌগাছা ও ভোলার চরফ্যাশনে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান ও চার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ঝিনাইদহের মহেশপুরে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান, যিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের এই বড় উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। প্রতিটি অঞ্চলের সভায় মণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, অগ্নিনির্বাপক প্রস্তুতি এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর জোর দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পূজার দিনগুলোতে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা বিশৃঙ্খলা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হবে এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর থাকবে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় দেশের প্রতিটি প্রান্তে অত্যন্ত আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপিত হবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ