ঢাকার ১১ বোলার, শুক্কুরের সেঞ্চুরি

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৪

খেলা ডেস্ক: জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলোতে জমে উঠেছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে নিজেদের ইনিংসে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেছে সিলেট বিভাগ। ম্যাচটি বর্তমানে ড্রয়ের পথেই এগোচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বোলারদের দারুণ নৈপুণ্য প্রদর্শনের পাশাপাশি এই ম্যাচে দেখা গেছে এক বিরল ঘটনা। ঢাকা তাদের এক ইনিংসে ব্যবহার করেছে মোট ১১ জন বোলারকে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন ঘটনা বেশ বিরল এবং এটি দর্শকদেরও বেশ বিনোদন দিয়েছে। উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্ব ছেড়ে ঢাকার অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও বোলিং করতে আসেন এবং এক ওভার বল করেন। দীর্ঘ পেশাদার ক্যারিয়ারে এই প্রথম বল করলেন তিনি, যা ক্রিকেটপ্রেমীদের অবাক করেছে। এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এক ইনিংসে ১১ জন বোলারের বোলিং করার ঘটনা দেখা গেছে মাত্র ছয়বার। এবারের আসরে এটি সপ্তম এমন নজির।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ঢাকা ও সিলেটের ম্যাচটিতে ব্যাটারদের আধিপত্য বজায় ছিল। এর আগে বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ইনিংস ঘোষণা করেছিল ঢাকা। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলে সিলেট। দিন শেষে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় পাঁচ উইকেটে চারশ একচল্লিশ রান। দলের হয়ে সর্বোচ্চ উননব্বই রান করেন আসাদুল্লাহ আল গালিব। এছাড়া একাঝলক আলো ছড়িয়ে আশরাফুল হাসান একাশটি রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। অধিনায়ক জাকির হাসান ও অভিজ্ঞ সৈকত আলীও দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। অল্পের জন্য অর্ধশতক হাতছাড়া করেন মুবিন আহমেদ। সামগ্রিকভাবে সিলেটের ব্যাটাররা উইকেটে বেশ সময় কাটিয়েছেন এবং ঢাকার বোলারদের ভালোভাবেই মোকাবিলা করেছেন।

- Advertisement -

এদিকে মিরপুরে অনুষ্ঠিত অন্য ম্যাচে খুলনার বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারের শঙ্কা থেকে কিছুটা দূরে রয়েছে রাজশাহী। প্রথম ইনিংসে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দলটি। উদ্বোধনী জুটিতে দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন হাবিবুর রহমান ও সাব্বির হোসেন। তারা দুজনে মিলে যোগ করেন একশো ছাব্বিশ রান। মাত্র দশ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন হাবিবুর, আর সাব্বির আউট হন আঠারো রান করে। তিন নম্বরে নামা নাঈম আহমেদের ব্যাটে আসে উনসত্তর রান। দিনশেষে তিন উইকেটে তিনশ রান সংগ্রহ করেছে রাজশাহী। তবে জয়ের লক্ষ্য থেকে তারা এখনও কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে এবং ম্যাচের শেষ দিনটি রোমাঞ্চকর হতে পারে।

অন্যদিকে কক্সবাজারে চট্টগ্রাম বিভাগের বিপক্ষে ইনিংস হারের এড়াতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বরিশাল বিভাগ। চট্টগ্রামের পাহাড়সম স্কোরের জবাবে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চাপেই রয়েছে দলটি। দিনশেষে চার উইকেটে একশো উনপঞ্চাশ রান সংগ্রহ করেছে বরিশাল। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ চৌহাত্তর রান এসেছে অধিনায়ক ইফতেখার হোসেনের ব্যাট থেকে। এর আগে চট্টগ্রাম তাদের প্রথম ইনিংসে পাঁচশো ছিয়াত্তর রানে অলআউট হয়। আগের দিন দুর্দান্ত খেলা ইরফান শুক্কুর এদিন নিজের ইনিংসকে সেঞ্চুরিতে রূপ দেন। ময়মনসিংহের বিপক্ষে অন্য ম্যাচে রংপুর বিভাগও নিজেদের অবস্থান শক্ত করে নিয়েছে। প্রথম ইনিংসে বড় লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও তাদের আধিপত্য বজায় ছিল। রংপুরের অধিনায়ক আকবর আলী দলের পক্ষে চৌহাত্তর রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। সব মিলিয়ে জাতীয় ক্রিকেট লিগের এই রাউন্ডে ব্যাটার ও বোলারদের দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ