মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া: ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পের পানিতেও আর্সেনিক

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৪

জাতীয় ডেস্ক: মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত সরকারি প্রকল্পে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। ডিপিএইচই প্রকল্পের আওতায় এই উপজেলায় সহস্রাধিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হলেও সেগুলোর বেশিরভাগের পানিতেই মিলেছে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক ও আয়রন। কোথাও কোথাও নলকূপের পানি এতটাই দূষিত যে তা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে এবং পান করার সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ পানির আশায় সরকারি নিয়ম মেনে ও নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করে এই নলকূপগুলো স্থাপন করলেও এখন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এই প্রকল্পের অধীনে সাটুরিয়ায় এক হাজার ১৭০টি সাবমারসিবল গভীর নলকূপ এবং ১৮টি কমিউনিটিভিত্তিক গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এর জন্য মোট বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৩ কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি পানির নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে প্রায় ৬০ শতাংশ নলকূপের পানিতেই মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর আর্সেনিক ও আয়রনের উপস্থিতি রয়েছে। দরগ্রাম, বালিয়াটি ও সাটুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, নলকূপের সেই পানি দিয়ে গোসল বা কাপড় ধোয়া পর্যন্ত সম্ভব হচ্ছে না, কারণ এতে সাদা কাপড়ে হলুদ দাগ পড়ে যাচ্ছে এবং ত্বক ও স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

- Advertisement -

ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মবহির্ভূতভাবে এবং নির্ধারিত গভীরতা বজায় না রেখেই এসব নলকূপ স্থাপন করেছে। অনেক স্থানে ৫০০ ফুট গভীরে পাইপ বসানোর কথা থাকলেও মাত্র সাড়ে তিনশ থেকে চারশ ফুট পাইপ বসিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি ব্যাংকে নির্দিষ্ট ফি জমা দেওয়ার পরও ঠিকাদারের লোকজন নলকূপ প্রতি অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। টাকা না দিলে ভালো মানের পানি পাওয়া যাবে না বলে উপকারভোগীদের নানাভাবে হুমকি ও প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলেও জানা গেছে।

সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আর্সেনিকযুক্ত এই পানি পান করলে মানবদেহে চর্মরোগ, ফুসকুড়ির পাশাপাশি ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এছাড়া কিডনি ও লিভারের জটিল সমস্যা হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এদিকে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী আজিজুল হাকিম দাবি করেছেন যে সাটুরিয়ার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক না থাকায় সব এলাকায় আর্সেনিকমুক্ত পানি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে নির্ধারিত শিডিউল ও নিয়ম মেনেই সমস্ত প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এই বিভাগের আরও সংবাদ