বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেও তথ্য দেয়নি সিলেট জেলা প্রশাসন

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
২

জাতীয় ডেস্ক: সরকারি নিয়ম ও নির্ধারিত বিধান অনুযায়ী যেকোনো নাগরিক তথ্য অধিকার আইনে যেকোনো দপ্তরে তথ্য পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই সিলেটের একটি আঞ্চলিক গণমাধ্যমের একজন সংবাদকর্মী স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ তহবিল বা এলআর ফান্ডের বিগত দিনের আয় এবং ব্যয়ের সুনির্দিষ্ট হিসাব চেয়ে আবেদন করেছিলেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত তথ্য না পেয়ে তিনি তথ্য কমিশন পর্যন্ত আপিল করেন এবং দীর্ঘ শুনানির পর প্রশাসনিক নির্দেশ আসে।

তথ্য কমিশনের আইনি পদক্ষেপের ফলস্বরূপ সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় থেকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ওই তথ্যগুলো সরবরাহ করার জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। মূলত জনস্বার্থে পরিচালিত তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই প্রশাসনিক আদেশের অপেক্ষা ছিল দীর্ঘদিন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি, উচ্চতর কর্তৃপক্ষের এই নির্দেশকে তোয়াক্কা না করে জেলা প্রশাসন নানা অজুহাতে তথ্য প্রদান থেকে বিরত থাকে।

- Advertisement -

তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনা হলো প্রশাসনের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যার ব্যত্যয় ঘটলে সাধারণ মানুষ তথ্যের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। প্রায় চার মাস ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় বারবার প্রশাসনিক টেবিলে ঘুরপাক খেলেও সাংবাদিক শেষ পর্যন্ত কোনো তথ্য পাননি। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের এমন অসহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব তথ্য অধিকার আইনের কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

একটি সরকারি দপ্তরের এমন তথ্য গোপনের প্রবণতা কেবল সাংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেই বাধা সৃষ্টি করছে না, বরং সামগ্রিক প্রশাসনিক স্বচ্ছতার দাবিকেও ম্লান করে দিচ্ছে। ভবিষ্যতে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য পেতে নাগরিকদের যেন এমন বিড়ম্বনার শিকার না হতে হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট মহলের কঠোর তদারকি ও নজরদারি প্রয়োজন। অন্যথায় আইন থাকার পরও সাধারণ মানুষ তার সুফল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ