বাড়তি সময় পাওয়ায় বাড়ল দায়িত্বও
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। এই সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করলেও একে কেবল স্বস্তির বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ দুটোই বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা উত্তরণের সময়সীমা পেছালেও অর্থনীতির ভেতরের দুর্বলতা কিংবা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার চাপ একটুও কমে যায়নি।
এই বাড়তি সময় কার্যকরভাবে ব্যবহারের জন্য সবার আগে প্রয়োজন একটি বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রকাশ করা। কোন মন্ত্রণালয় বা সরকারি সংস্থা নির্দিষ্ট কত দিনের মধ্যে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, প্রয়োজনীয় অর্থ কোথা থেকে জোগান দেওয়া হবে এবং কাজের অগ্রগতি কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে—সেসব বিষয়ে সবকিছু একদম পরিষ্কার থাকতে হবে। কেবল কাগজ-কলমে পরিকল্পনা সীমাবদ্ধ রাখলে এই তিন বছরের অতিরিক্ত সময়ও কোনো উপকারে আসবে না, তাই নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা করে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা জরুরি।
অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা কাটানোর অংশ হিসেবে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, ব্যাংক খাতে সুশাসন নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এখন সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের অবকাঠামোগত ঘাটতি দূর করতে হবে, ব্যবসার খরচ কমাতে হবে এবং নীতিগত ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। রপ্তানি বাণিজ্যে তৈরি পোশাক খাতের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও বাজারের পরিধি বাড়াতে না পারলে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে শুল্কমুক্ত সুবিধা হারিয়ে বড় ধরনের বিপাকে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
উত্তরণ প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য চাপ যেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সাধারণ শ্রমিক, নারী এবং তরুণ সমাজের ওপর বেশি না পড়ে, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। তাদের জন্য প্রযুক্তিগত সহায়তা, দক্ষতা বৃদ্ধি, সহজে অর্থায়ন এবং নতুন বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে বাজারের প্রকৃত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। সরকারের দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই কেবল এই বাড়তি সময়ের সদ্ব্যবহার করা সম্ভব, যা দিনশেষে দেশের রপ্তানি, বিনিয়োগ ও সাধারণ মানুষের জীবনমানের টেকসই উন্নয়নে প্রতিফলিত হবে।
