বাংলাদেশ-জাপান ছয় সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর, ২৯৫.৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ প্রতিশ্রুতি

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক জাপান সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ দলিল স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এই সরকারি সফরে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর পথ সুগম হয়েছে। এই সফরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে দুই দেশ। এর আগে গত ২৬ অক্টোবর উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে জাপানে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর মধ্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে একটি টহল জাহাজ দেওয়ার জন্য প্রায় ১৩ কোটি ৪৪ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ অনুদান চুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এ ছাড়া ব্যবসায়িক পরিবেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করতে জাপানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জাপানের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর পৃথক দুটি সহযোগিতা স্মারকও সম্পন্ন হয়েছে।

- Advertisement -

দক্ষতা বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি বিশেষ কর্মসূচি এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতার হাত বাড়াতে আরেকটি আগ্রহপত্র বিনিময় করা হয়েছে দুই দেশের মধ্যে। এসব উদ্যোগের বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বড় অংকের আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে জাপান সরকার। বিশেষ করে বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ও উপজেলা পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় বাস্তবায়নে সবমিলিয়ে প্রায় ২৯৫ দশমিক ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

চার দিনের এই সফল সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী জাপানি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। এসব আলোচনায় দুই দেশের মধ্যকার প্রযুক্তি হস্তান্তর, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়, যা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে দীর্ঘমেয়াদী ভূমিকা রাখবে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ