বাংলাদেশকে অভিবাসন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে হবে: স্পিকার

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

জাতীয় ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম মন্তব্য করেছেন যে অভিবাসন কেবল বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থের ওপর নির্ভর করে না, বরং এর সঙ্গে মানুষের মৌলিক অধিকার, মর্যাদা এবং নিরাপত্তা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাজধানীর ওয়েস্টিন ঢাকা হোটেলে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে প্রবাসীদের পাঠানো এই রেমিট্যান্সের পেছনে রয়েছে সাধারণ নাগরিকদের অশেষ কষ্ট এবং সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশা। তাই অভিবাসী শ্রমিকদের এই কষ্ট লাঘব করার জন্য নীতিনির্ধারক থেকে শুরু করে সবাইকে আরও অনেক বেশি সচেতন ও দায়িত্বশীল হতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন যে নারী শ্রমিকদের বিভিন্ন অভিবাসন গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ও কষ্টের শিকার হতে হয়। দেশের প্রচলিত আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিবাসন নীতিমালা সফলভাবে বাস্তবায়নের ওপর তিনি জোর দেন। একই সঙ্গে অভিবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে সংশ্লিষ্ট গন্তব্য দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক স্তরে কার্যকর আলোচনার তাগিদ দেন তিনি। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে শুধু শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ নয়, বরং একটি উপযুক্ত অভিবাসন গন্তব্য হিসেবেও সফলভাবে গড়ে তুলতে হবে।

- Advertisement -

বিগত সময়ের বিভিন্ন অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে স্পিকার জানান যে আগের স্বৈরাচারী সরকারের শাসনামলে বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটি অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছিল। নানা ধরনের অব্যবস্থাপনা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে বিগত বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে প্রবাসে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সংকট উত্তরণে গঠিত সর্বদলীয় সংসদীয় ককাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যরা বিদেশে কর্মী প্রেরণে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবেন এবং সরাসরি মাঠপর্যায়ে অভিবাসন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিবিড়ভাবে তদারকি করবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন যে প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো কষ্টার্জিত রেমিট্যান্স হলো দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। অথচ দুঃখজনক হলেও সত্য যে এসব প্রবাসী শ্রমিকেরা বিভিন্ন অভিবাসন গন্তব্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের নিপীড়ন ও শোষণের শিকার হয়ে আসছেন। বিদেশে অবস্থিত দেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর মাধ্যমে এসব অসহায় শ্রমিকের অধিকার ও নিরাপত্তা শতভাগ সংরক্ষণে জোরেশোরে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এছাড়া অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিশিষ্টজনেরাও প্রবাসীদের নিরাপদ অভিবাসন এবং সামগ্রিক সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ