ফ্যাসিবাদ ফিরলে দায় জামায়াতকে নিতে হবে: শামা ওবায়েদ
ইপেপার / প্রিন্ট
রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশে যদি আবারও কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটে, তবে তার সম্পূর্ণ দায় জামায়াতে ইসলামীকে বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বিরোধী দলগুলো যদি তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করে, তবে সেই শূন্যতার সুযোগ নিয়ে স্বৈরাচারী শক্তিগুলো পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে। সাম্প্রতিক এক রাজনৈতিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দেশব্যাপী চলমান সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিলে এই মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। গত দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে দেশের সাধারণ মানুষ যেভাবে গুম, খুন, হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন দীর্ঘ ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর দেশ এখন স্থিতিশীলতার পথে যাত্রা শুরু করেছে। অথচ এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে বর্তমানে নানা ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনের অনিয়মের কথা তুলে ধরে শামা ওবায়েদ বিদ্যুৎ খাতের কড়া সমালোচনা করেন। বিগত সরকারের আমলে এই খাতে নজিরবিহীন দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান প্রশাসনের সময়েও এই খাত কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। দেশীয় প্রাকৃতিক সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন এবং খাতটিকে দ্রুত স্বাভাবিক ধারায় ফিরিয়ে আনার তাগিদ দেন।
দলীয় নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির ভেতরে লুকিয়ে থেকে কেউ যেন স্বৈরাচারী কায়দায় দলীয় শৃঙ্খলা বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে। একই সঙ্গে দেশের সূর্যসন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়ন কিংবা তাদের অবমাননা করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে দল কঠোর অবস্থান নেবে বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, এর আগে নগরকান্দা সদর পেট্রোল পাম্প এলাকা থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এমএন একাডেমি মাঠে গিয়ে সমাপ্ত হয়। উক্ত সমাবেশে উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
