প্রথম ধাপে ১ হাজার ৫০ ইউপিতে ভোট, ইভিএম আর নয়: ইসি সচিব

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
০

জাতীয় ডেস্ক: দেশের প্রথম ধাপে এক হাজার ৫০টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। আবহাওয়া পরিস্থিতি ও উপকূলীয় অঞ্চলের নানা দিক বিবেচনা করে দেশের সিংহভাগ ইউনিয়ন পরিষদের ভোট প্রথম দুই ধাপেই সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, যেসব ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ভোট গ্রহণের উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রথম ধাপের খসড়া তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে নির্দিষ্ট কোনো উপজেলার অধীন সব কটি ইউনিয়ন পরিষদেই একই দিনে ভোট গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমানে কোনো ধরনের আইনি জটিলতা বা সীমানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করার জন্য মাঠপর্যায়ে তালিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এই তালিকা চূড়ান্ত করা হতে পারে।

নির্বাচন কমিশন সচিব আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। এই মেশিনগুলো কীভাবে নিয়মমাফিক নিষ্কাশন বা জমা দেওয়া হবে, তার চূড়ান্ত হিসাব-নিকাশ ও নিষ্পত্তির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। এ বিষয়ে যথাযথ সুপারিশ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সবাইকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হবে। ইভিএম বাদ দেওয়ার ফলে এবারের নির্বাচনে ঐতিহ্যগত পদ্ধতিতে তিন ধরনের কাগজের ব্যালট পেপার মুদ্রণ করাসহ সব ধরনের প্রয়োজনীয় নির্বাচনী সরঞ্জাম প্রস্তুতের কাজ জোরেশোরে এগিয়ে চলছে। বর্তমান কমিশন পুরোপুরিভাবে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের ওপর মনোযোগ দিয়েছে এবং এই মুহূর্তে সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাদের কোনো পরিকল্পনা বা পর্যালোচনা নেই।

- Advertisement -

ভোট আয়োজনের পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও ত্রুটিমুক্ত করার জন্য বেশ কিছু নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। শিশুদের ছয় বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় সরবরাহ করা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী ডেটাবেইস গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন ফরমে নতুন একটি পারিবারিক বৃক্ষ বা ফ্যামিলি ট্রি সফটওয়্যার যুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। এই পদ্ধতি কার্যকর হলে একজন নাগরিক মা-বাবার কততম সন্তান এবং তাঁর ভাইবোনদের পরিচয়সহ যাবতীয় তথ্য নিবন্ধিত থাকবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো নাগরিকের পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করে তুলবে। নতুন ভোটারদের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে পুরোনো ভোটারদের তথ্য হালনাগাদের সময়ও এই পারিবারিক তথ্যগুলো যুক্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

স্মার্ট কার্ড বিতরণসংক্রান্ত কিছু জটিলতার বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব জানান যে পূর্বে ইস্যু করা লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্রগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়নি এবং এগুলো পুরোপুরি বৈধ ও সচল রয়েছে। নাগরিকদের ব্যবহৃত কার্ডের দশ ডিজিটের ইউনিক নম্বরটিই মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে, যার মাধ্যমে যেকোনো মুহূর্তে ডেটাবেইস থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির তথ্য যাচাই করা সম্ভব। তাই পুরোনো লেমিনেটেড কার্ডধারীদের এ বিষয়ে আতঙ্কিত বা উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। সামগ্রিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা আনতে নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ের প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ