নৃত্যের ভাষায় শামীম আরা নিপার দেশকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার গল্প | তাঁHER কথা | পর্ব–০৬

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
৩

বিনোদন ডেস্ক: প্রথম আলোর বিশেষ পডকাস্ট ‘তাঁHER কথা’-র সাম্প্রতিক একটি পর্বে অতিথী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যাঞ্চলের প্রতিষ্ঠাতা শামীম আরা নিপা। সমাজে সফল ও অনুপ্রেরণাদায়ী নারীদের জীবনসংগ্রাম ও সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজনটি নিয়মিত প্রচার করা হয়ে থাকে। এবারের আড্ডায় শিল্পীর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের বিভিন্ন অজানা অধ্যায় এবং তাঁর শিল্পসাধনার নানা দিক অত্যন্ত সাবলীলভাবে উঠে এসেছে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ রিদওয়ানুল হক।

আলোচনার শুরুতেই নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা তাঁর শৈল্পিক জীবনের নানা চড়াই-উতরাই ও অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেন। নকশি কাঁথার বিখ্যাত ‘সাজু’ চরিত্রটিকে নিজের নৃত্যশৈলী ও ভাবনায় ফুটিয়ে তোলার পেছনের গল্প তিনি শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। কত্থক নৃত্যের অত্যন্ত কঠোর ও নিখুঁত ব্যাকরণ রপ্ত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি বর্ণনা করেন। বিশেষ করে, চীনের জ্যামিতিক কোরিওগ্রাফি বা নৃত্যবিন্যাসের কৌশল আয়ত্ত করার বিষয়টি তাঁর শিল্পীজীবনে এক অনন্য মাত্রা যোগ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

- Advertisement -

দেশীয় সংস্কৃতির গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে নৃত্যশিল্পের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে এই আলাপচারিতায় উঠে আসে। শামীম আরা নিপা তাঁর দীর্ঘ নৃত্যযাত্রায় কীভাবে বারবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলার শিল্পকলাকে পরিচিত করেছেন, তার সবিস্তার বিবরণ দেন। ভিনদেশি শিল্পরীতি ও কোরিওগ্রাফি শেখার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতির মৌলিকত্ব বজায় রাখার চ্যালেঞ্জগুলোও তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। তাঁর এই পথচলা দেশের উঠতি নৃত্যশিল্পী ও তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করছে।

একজন সফল নারী শিল্পী হিসেবে তাঁর এই সংগ্রাম ও অর্জন কেবল শিল্পজগতেই নয়, বরং সামগ্রিক সমাজেও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কঠোর পরিশ্রম, একাগ্রতা এবং সংস্কৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসাই তাঁকে আজকের এই উচ্চতায় নিয়ে এসেছে বলে পডকাস্টটিতে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে শ্রোতারা দেশের একজন গুণী শিল্পীর অন্তরালের গল্প শোনার সুযোগ পেয়েছেন, যা সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

এই বিভাগের আরও সংবাদ