নীরব বসন্তের কালে অপরাধী ধরা যায়, ছোঁয়া যায় না

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
০

জাতীয় ডেস্ক: বিখ্যাত মার্কিন পরিবেশবিদ র‍্যাচেল কারসন অনেক আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন যে, অতিরিক্ত কীটনাশক বা বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার একদিন প্রকৃতি থেকে পাখির গান এবং জলজ প্রাণীর কলকাকলি চিরতরে স্তব্ধ করে দেবে। বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালে বিষ প্রয়োগ করে নির্বিচারে মাছ শিকারের যে ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা মূলত সেই আশঙ্কারই এক নিষ্ঠুর বাস্তবায়ন। অসাধু চক্রের এই ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের ফলে বনের ভেতরের নদী ও খালগুলো ধীরে ধীরে প্রাণহীন হয়ে পড়ছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অপরাধীরা খুব সুকৌশলে সুন্দরবনের ভেতরের বিভিন্ন জলাশয়ে ক্ষতিকর বিষ প্রয়োগ করে থাকে। এই বিষের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় শুধু বড় মাছই নয়, বরং খালের পানিতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ, মাছের রেণু পোনা, সাপ, উভচর প্রাণী এবং নানা ধরনের উপকারী পোকামাকড় মুহূর্তের মধ্যে মারা যায়। এর ফলে পুরো জলজ খাদ্যশৃঙ্খল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং সুন্দরবনের বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

- Advertisement -

পরিবেশবাদীরা বলছেন, এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পেছনে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র জড়িত থাকে। অনেক সময় অপরাধীদের হাতেনাতে ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালালেও, মূল হোতারা প্রায় ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়। বন ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অপরাধীদের এই অনাক্রম্যতার সংস্কৃতি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের স্বাভাবিক অস্তিত্বকেই হুমকিতে ফেলছে।

এই মারাত্মক সংকট উত্তরণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগকে আরও কঠোর হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবিদরা। কেবল নামেমাত্র অভিযান পরিচালনা না করে, বিষ প্রয়োগকারী এবং এর নেপথ্যের কারবারিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে এবং সুন্দরবনের নদী ও খালের সুরক্ষা জোরদার করার মাধ্যমেই কেবল এই ধ্বংসলীলা রোধ করা সম্ভব।

এই বিভাগের আরও সংবাদ