নির্মাণের এক সপ্তাহেই পায়ের ঘষায় উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং
ইপেপার / প্রিন্ট
জাতীয় ডেস্ক: জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার গলাকাটা থেকে আংড়া পর্যন্ত নবনির্মিত সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তা উঠে যাওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর দাবি, সামান্য পায়ের ধাক্কা বা ঘষাতেই পিচ ও পাথর খসে পড়ছে, যা অত্যন্ত নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। প্রায় পঁচাশি লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটির এমন বেহাল দশায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং কাজের মান নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় লিনা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই এক কিলোমিটার সড়ক পাকাকরণের কাজটি বাস্তবায়ন করেছে। কার্যাদেশ পাওয়ার পর সম্প্রতি নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তারা কাজ শেষ করে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কার্পেটিংয়ের প্রাথমিক পর্যায়ে নিম্নমানের ইট এবং বালুর বদলে মাটি ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল সাধারণ মানুষ। সে সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে কাজের মান ভালো করার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে তা রক্ষা করা হয়নি।
এদিকে সড়কের পিচ ও পাথর উঠে যাওয়ার বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। সম্প্রতি ঠিকাদারের লোকজন পরিদর্শনের জন্য এলাকায় গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাদের তীব্র বাকবিতণ্ডা ও একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে পাঁচবিবি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউল ফেরদৌস রাইটসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্থানীয় আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আ স ম আরেফিন চৌধুরীও সড়কের কাজে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারের প্রতিনিধি মাহাবুব ইলাহী দাবি করেছেন যে গ্রামবাসীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিটুমিন পুরোপুরি জমাট বাঁধতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। অন্যদিকে পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান দাবি করেছেন নিয়ম মেনেই কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং কিছু মানুষ নিজেরা পিচ তুলে ভিডিও বানিয়ে তা প্রচার করছেন।
