তৃতীয় ধাপের পরীক্ষাও সফল, ত্বকের ক্যানসার চিকিৎসায় আসছে টিকা

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

স্বাস্থ্য ডেস্ক: মারাত্মক ত্বকের ক্যানসার মেলানোমার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবিত ব্যক্তিকেন্দ্রিক এমআরএনএ টিকার চূড়ান্ত ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অভূতপূর্ব সফলতা পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলীয় বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর প্রচলিত থেরাপির পাশাপাশি এই বিশেষ টিকা ব্যবহার করলে ক্যানসার ফিরে আসা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক কমে যায়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই ঐতিহাসিক সাফল্য ফলাও করে প্রচার করা হয়েছে। সিডনিভিত্তিক মেলানোমা ইনস্টিটিউট অস্ট্রেলিয়ার মেডিক্যাল ডিরেক্টর এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জর্জিনা লং এই গুরুত্বপূর্ণ ট্রায়ালটির নেতৃত্ব দেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ক্যানসার চিকিৎসায় এমআরএনএ প্রযুক্তির এই প্রয়োগ এক বিশাল যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।

মোট এক হাজার ১৩৭ জন রোগীর ওপর দীর্ঘ এই গবেষণাটি পরিচালনা করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর শুধুমাত্র প্রচলিত ওষুধ গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে ৭০ শতাংশ ক্যানসারমুক্ত ছিলেন। অন্যদিকে, যাদের শরীরে প্রচলিত ওষুধের পাশাপাশি এই নতুন টিকা প্রয়োগ করা হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে ক্যানসারমুক্ত থাকার হার বেড়ে ৮২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান মডার্না ও মার্ক জানিয়েছে, সার্জারির পর প্রতিটি রোগীর টিউমারের জিনগত বৈশিষ্ট্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তাদের উপযোগী করে এই টিকা তৈরি করা হয়। ফলে রোগীর নিজস্ব রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ক্যানসার কোষগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে এটি কোনো সাধারণ প্রতিরোধমূলক টিকা নয়, বরং ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর রোগ পুনরায় আক্রমণ করা থেকে রক্ষা করতে এটি ব্যবহৃত হয়। স্বাস্থ্য খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী বছর থেকেই উচ্চঝুঁকিতে থাকা রোগীরা এই চিকিৎসাসেবার আওতায় আসতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মেলানোমার পাশাপাশি ফুসফুস, স্তন এবং অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। করোনাকালের এমআরএনএ টিকার অভাবনীয় সাফল্যের পরই মূলত ক্যানসার চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির ব্যবহার বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক এবং সিনা ল্যাবের প্রধান গবেষক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. আবু সিনা এই অর্জনকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের এক বিশাল মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে তীব্র রোদের কারণে অস্ট্রেলিয়ায় মেলানোমার প্রকোপ তুলনামূলক বেশি থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দীর্ঘদিন ধরে এই রোগ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ছিলেন। এই নতুন চিকিৎসা পদ্ধতি ভবিষ্যতে কেবল অস্ট্রেলিয়া নয়, বরং বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসায়ও নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অস্ত্রোপচার এবং প্রচলিত থেরাপির পাশাপাশি এই টিকার ব্যবহার ক্যানসার রোগীদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলে গবেষকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

এই বিভাগের আরও সংবাদ