জ্বালানি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়াল
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে। সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হুথি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলার পর মার্কিন প্রশাসন উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবে অবস্থিত তাদের কূটনৈতিক মিশনের কিছু কর্মী ও তাদের পরিবারকে অবিলম্বে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ জারি করেছে। এই আকস্মিক নিরাপত্তা সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের ওপর।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে বেঞ্চমার্ক হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২ শতাংশ বা ১ ডলার ২৯ সেন্ট বৃদ্ধি পেয়ে ১১০ ডলার ১১ সেন্টে গিয়ে ঠেকেছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের বা ডব্লিউটিআইয়ের দামও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এই জ্বালানিটির দাম ১ শতাংশ বা ৯৭ সেন্ট বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৮ ডলার ১২ সেন্টে লেনদেন হতে দেখা গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য নতুন এক উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসের আগের দিন বিশ্ববাজারে তেলের দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা বা মিশ্র প্রবণতা লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ওই সময় ব্রেন্ট ক্রুডের বাজারদর প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআইয়ের দাম প্রতি ব্যারেলের ক্ষেত্রে ৬৭ সেন্ট পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা সাময়িক সেই স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে এবং বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির পথ উন্মুক্ত করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের কাছে মার্কিন প্রশাসনের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে ওয়াশিংটন। ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলো থেকেও কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ক্রমান্বয়ে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির সরবরাহ আরও ব্যাহত হতে পারে এবং এর জেরে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
