জ্বালানি তেলের দাম বিশ্ব বাজারে কমলেও দেশে কেন বাড়াতে হল
ইপেপার / প্রিন্ট
অর্থনীতি ডেস্ক: বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য কিছুটা হ্রাসের প্রবণতা দেখা গেলেও দেশের বাজারে এর দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে নীতিনির্ধারক মহলের দাবি। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, বিশ্ববাজারে যখন জ্বালানির দাম নিম্নমুখী, তখন দেশের ভেতরে কেন এর উল্টো চিত্র দেখা গেল। এই পরিস্থিতি নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন ধরনের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত বিপণনকারী প্রতিষ্ঠানের লোকসান কমানো এবং সরকারের ভর্তুকির চাপ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি অপরিহার্য হয়ে পড়েছিল। অতীতে বিশ্ববাজারে তেলের চড়া দামের কারণে বড় ধরনের আর্থিক ঘাটতির মুখে পড়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো। সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও লাগামহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। কৃষিকাজে ব্যবহৃত সেচ পাম্প এবং পণ্য পরিবহনেও এর বিরূপ প্রভাব পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে স্থানীয় বাজারের দাম সমন্বয়ের একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি থাকা প্রয়োজন ছিল, যা এই ধরনের আকস্মিক ধাক্কা এড়াতে সাহায্য করতে পারত। কেবল ভর্তুকি কমানোর জন্য জনগণের ওপর এই বাড়তি চাপ না চাপিয়ে বিকল্প কোনো ব্যবস্থাপনা করা যেত কি না, তা নিয়ে এখন নানা মহলে আলোচনা চলছে। সরকারের পক্ষ থেকে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তেলের দাম কমানোর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
