উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ব্রিটেন, সব জায়গায় পিছু হটছে যুক্তরাষ্ট্র
ইপেপার / প্রিন্ট
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সম্ভাব্য হামলার হুমকির মুখে সম্প্রতি ব্রিটেনের একটি বিমানঘাঁটি থেকে এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই হুমকির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিকে বড় কিছু নয় বলে উড়িয়ে দিলেও, গত কয়েক মাসের বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তির বিন্যাস পর্যালোচনায় ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ভূখণ্ড থেকে ওয়াশিংটনকে বাধ্য হয়ে সামরিক শক্তি গুটিয়ে নিতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই সংঘাত মার্কিন সামরিক ব্যবস্থার এমন কিছু দুর্বলতা প্রকাশ্যে এনেছে যা কিছুদিন আগেও অভাবনীয় ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে অভিযানের মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীর শক্তির বড় প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন এবং সংঘাত দ্রুত শেষ হবে বলে ধরে নিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবে এর ফল উল্টো হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ কিংবা তাদের কার্যক্রম সীমিত করতে হয়েছে। এমনকি লজিস্টিক ব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে এখন মার্কিন বোমারু বিমানগুলোকে মূল ভূখণ্ড থেকে সুদূর পথ পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে হচ্ছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সময়ে ড্রোন হামলার নতুন কৌশল গ্রহণ করায় পেন্টাগনের পুরোনো প্রতিরক্ষা কৌশল বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এর আগে ইউক্রেনীয় বাহিনীর গোপন ড্রোন হামলার সফল অভিজ্ঞতা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিপক্ষরা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করছে। বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের মতো মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত স্থানগুলো থেকে সেনাসদস্যদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিতে হয়েছে। অনেক ঘাঁটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলোর পুনর্নির্মাণের চেয়ে অনেক দূরে নতুন স্থাপনা গড়ার কথা ভাবছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর।
এদিকে জলপথেও কাঙ্ক্ষিত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন নৌবহর, যার ফলে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের কিছু অংশে অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইল বা জর্ডানে নতুন ঘাঁটি স্থাপনের কথা ভাবলেও এর জন্য দীর্ঘ সময় ও কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এই ধারাবাহিক সেনা প্রত্যাহার ও কৌশলগত পিছু হটার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মার্কিন পরাশক্তির অপ্রতিরুদ্ধ ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।
