ইবাদত কবুলের ৪ শর্ত

ইপেপার / প্রিন্ট ইপেপার / প্রিন্ট
১

ধর্ম ডেস্ক: ইসলাম ধর্মে ইবাদত বা নেক আমল একজন মুমিনের জীবনের অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কেবল নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার করার মাধ্যমেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং এসব আমল মহান আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বান্দার প্রতিটি সৎকাজের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁর পক্ষ থেকে যথাযথ প্রতিদান লাভের ওপর। তাই ইসলামি বিধান অনুযায়ী কোন বিষয়গুলো মেনে চললে ইবাদত সফলভাবে কবুল হয়, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি।

নেক আমল কবুল হওয়ার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে মৌলিক শর্ত হলো বান্দার মনে বিশুদ্ধ ইমান থাকা। আল্লাহর একত্ববাদে অটল বিশ্বাস, তাঁর সব নির্দেশনার প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং যেকোনো ধরনের শিরক থেকে মুক্ত থাকা মুমিন জীবনের মূল ভিত্তি। পবিত্র কোরআনেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যেখানে বলা হয়েছে, সঠিক ইমান নিয়ে সৎকর্ম করলে পুরুষ ও নারী উভয়েই জান্নাত লাভ করবে। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ইমানের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ইমানের পরিপন্থী সব কাজ থেকে নিজেদের দূরে রাখা অপরিহার্য দায়িত্ব।

- Advertisement -

ইবাদত কবুলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সুন্নতের সুনির্দিষ্ট অনুশাসন অনুযায়ী আমল পরিচালনা করা। ইসলামে কোনো ইবাদত বা ধর্মীয় কাজের ভিত্তি হতে হবে রাসুলের নির্দেশনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। ধর্মের নামে মনগড়া কোনো পদ্ধতি বা নতুন প্রথা আবিষ্কার করার কোনো সুযোগ নেই, কারণ ভিত্তিহীন এসব কাজ আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যাত। এছাড়া তৃতীয় অন্যতম প্রধান শর্ত হলো হালাল উপার্জন এবং পবিত্র খাবার গ্রহণ নিশ্চিত করা। হারাম উপার্জনের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত জীবন বা খাদ্য কখনোই আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না, যা বান্দার দোয়া ও ইবাদত কবুলের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

ইবাদত কবুলের চতুর্থ ও অন্যতম প্রধান শর্ত হলো আমলে ইখলাস বা একনিষ্ঠতা বজায় রাখা। যেকোনো নেক কাজ মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য, সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে কিংবা লোকদেখানোর মানসিকতা নিয়ে করা হলে তা সম্পূর্ণ বাতিল বলে গণ্য হয়। পবিত্র কোরআনেও লোকদেখানো ইবাদতকারীদের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করা হয়েছে এবং কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে দ্বীন পালন করতে বলা হয়েছে। তাই আমল করার আগে নিয়ত খাঁটি করা এবং রিয়া বা লোকদেখানোর প্রবৃত্তি থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকাই একজন প্রকৃত মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

এই বিভাগের আরও সংবাদ