Browsing category

বাংলাদেশ

সাভারের আশুলিয়ায় আলোচিত ট্রিপল মার্ডারের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ক্লুলেস এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পিবিআই বলছে, পরকীয়াসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানিয়েছেন পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম.এম. মোর্শেদ। এর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আশুলিয়ার জামগড়ায় একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে এক দম্পতি ও তাদের নবজাতক সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের দেওয়া খবরের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে দরজা ভেঙে গলিত অবস্থায় তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন নাজমা খাতুন, তার স্বামী আলমগীর কবির ও তাদের সদ্য ভূমিষ্ঠ সন্তান। নাজমা স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। আর আলমগীর পান-সিগারেট বিক্রি করতেন। ঘটনাটি ক্লুলেস হওয়ায় তদন্তে নামে পিবিআই। পাশাপাশি ছায়া তদন্তের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করতে থাকে সংস্থাটি। একপর্যায়ে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গত ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে কারখানা ছুটির পর নাজমা ও তার স্বামী বাসায় ফেরেন। এরপর নাজমার সঙ্গে ওই ব্যক্তির পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে—এমন অভিযোগে আলমগীর তাকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন। পিবিআই বলছে, ওই ব্যক্তিকে মারধর ও সতর্ক করার একপর্যায়ে আলমগীরের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ওই ব্যক্তি নাজমা ও আলমগীরকে হত্যা করেন। এ সময় তাদের নবজাতক সন্তানও মারা যায় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। হত্যার পর বাইরে থেকে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। পরে কয়েক দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, গ্রেফতার ব্যক্তির সঙ্গে নিহতদের সম্পর্ক এবং হত্যার পেছনের বিস্তারিত কারণ খতিয়ে দেখছে পিবিআই।

Read more

ঢাকার আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কের পাশে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বর্জ্য ফেলতে গিয়ে তিনজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জেলা প্রশাসকের আকস্মিক পরিদর্শনে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম আমিনবাজার-হেমায়েতপুর মহাসড়কসংলগ্ন পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম পরিদর্শনে গেলে এ ঘটনা ধরা পড়ে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এর আগেও একাধিকবার মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থাতেই বর্জ্য না ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হলেও কয়েকজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী তা অমান্য করে সেখানে বর্জ্য ফেলছিলেন। ঘটনাস্থলেই জেলা প্রশাসক অভিযুক্তদের তীব্র ভর্ৎসনা করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, মহাসড়কের পাশে কোনোভাবেই বর্জ্য ফেলা যাবে না। এ বিষয়ে আগেই স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও যারা নির্দেশ অমান্য করেছে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও জনস্বার্থের প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। জেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশ দূষণ রোধ, দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে মহাসড়ক ও জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কারণে ভোগান্তিতে থাকা আমিনবাজার থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত মহাসড়ককে পরিচ্ছন্ন, দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব করে তুলতে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মহাসড়কের দুই পাশে বছরের পর বছর ধরে জমে থাকা ও অবৈধভাবে ফেলা বর্জ্য অপসারণ করে নির্ধারিত ল্যান্ডফিলে স্থানান্তর করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার দুই পাশ বালি ও মাটি দিয়ে ভরাট করে স্লোপ নির্মাণের কাজ চলছে, যাতে বর্ষাকালে মাটি ক্ষয় রোধ করা যায়। সবুজায়নের অংশ হিসেবে সড়কের দুই পাশে নিম, সুপারি ও নারিকেল গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে কেউ মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলতে না পারে, সে জন্য দুই পাশে সুরক্ষা বেড়া নির্মাণেরও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, মহাসড়ককে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। এ ধরনের অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

Read more