‘৪ লাখ টাকার মাটি কোথায়?’—শ্যামনগর উপজেলা পরিষদে কাজের অস্তিত্ব নেই, অর্থ লোপাটের অভিযোগ
ইয়াছিন মোড়ল | শ্যামনগর, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে মাটি ভরাটের জন্য ২০২৪- ২০২৫ অর্থ বছরের ৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব নেই—এমন অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের নামে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হলেও মাঠে দৃশ্যমান কোনো কাজ করা হয়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, উপজেলা পরিষদের ভেতরে যেখানে মাটি ভরাটের কথা ছিল, সেখানে নতুন করে মাটি ফেলার কোনো চিহ্ন নেই। অথচ সরকারি নথিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন নাগরিকরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, যদি প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে থাকে, তাহলে সেই কাজ কোথায়? সরকারি অর্থে সম্পন্ন হওয়া উন্নয়নকাজ জনগণের চোখে দৃশ্যমান থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে কাজ না থাকলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকল্পের কার্যাদেশ, পরিমাপ বই (এমবি), বিল-ভাউচার, অর্থ উত্তোলনের নথি এবং কাজের পূর্ব ও পরবর্তী ছবি প্রকাশ করা হলে প্রকৃত সত্য সহজেই বেরিয়ে আসবে।
সুশাসনকর্মীদের মতে, অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে এটি শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং সরকারি অর্থ আত্মসাতের মতো গুরুতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাই একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জেলা প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরা হোক।