সীমান্ত দিয়ে টাকা ঢোকা ঠেকাতে পারেন না কেন—সরকারকে প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

রাজনীতি ডেস্ক: সীমান্তের ওপার থেকে অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র আসার বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বর্তমান প্রশাসন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যে সরকার এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে ব্যর্থ হয়, তাদের দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার থাকতে পারে না।

এ সময় দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিএনপিকে একহাত নেন জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি বিভিন্ন সময় নানা ধরনের বয়ান তৈরি করছে এবং জামায়াত নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে—এমন বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো হচ্ছে। অথচ অতীতে নির্বাচনের সময় এই দলগুলোই কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাছে ভোটের জন্য তদবির করেছিল বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়া ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের এখনো গুরুত্বপূর্ণ পদে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থা এবং জনজীবনের দুর্ভোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, জনগণের ঘাড়ে দফায় দফায় করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। এছাড়া বিদেশে কর্মরত প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসার পর তাদের পুনর্বাসনে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নেই। বাজার সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অপরাধীদের ছাড় দেওয়ার সংস্কৃতির তীব্র সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। চাঁদাবাজি ও দখলদারির মতো অপরাধ রোধ করতে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের মতো অপরাধের ঘটনায় কেবল পদত্যাগের মাধ্যমেই দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের পাহাড়সম ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।