সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে মানের নিশ্চয়তা জরুরি

জাতীয় ডেস্ক: পণ্য ও প্রযুক্তির গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে উদযাপিত হয়েছে ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস। চলতি বছর আন্তর্জাতিক মান সংস্থাগুলোর নির্ধারিত প্রতিপাদ্যের আলোকে উন্নত বিশ্বের অভিন্ন লক্ষ্য হিসেবে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার প্রসারের বিষয়টি বিশেষভাবে সামনে আনা হয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সপ্তম অধ্যায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সবার জন্য নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করার ওপর এই দিবসে জোর দেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক এই দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো শিল্পোৎপাদন থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে মানসম্মত পণ্যের ব্যবহার নিশ্চিত করা।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর একটি ক্লাবে বিশেষ আলোচনা সভার পাশাপাশি বেতার ও টেলিভিশনে প্রচারণামূলক অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। এছাড়া বিটিআরসির সহযোগিতায় সাধারণ মানুষের মুঠোফোনে সচেতনতামূলক খুদে বার্তা পাঠানো এবং রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ব্যানার ও ফেস্টুন স্থাপন করা হয়। আন্তর্জাতিক মান সংস্থা আইএসও, আইইসি এবং আইটিইউর যৌথ উদ্যোগে নির্ধারিত এই প্রতিপাদ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ালেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়, বরং এর উৎপাদনে এবং ব্যবহারে পূর্ণ দক্ষতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখা জরুরি। সৌর প্যানেল, ব্যাটারি ও ইনভার্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতির মান যাচাই করা সম্ভব হলে জ্বালানির অপচয় কমানোর পাশাপাশি ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সহজ হয়। এই প্রয়োজনীয়তা মাথায় রেখে সৌরবিদ্যুৎ খাতের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা বাড়াতে বিএসটিআই ইতিমধ্যে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রণয়ন করেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এসব নিয়ম নিয়মিত হালনাগাদ করা হচ্ছে যাতে দীর্ঘমেয়াদে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সুফল পাওয়া যায়।

দেশের অভ্যন্তরে পণ্যের মান যাচাইয়ের সক্ষমতা আরও বাড়াতে বিএসটিআইয়ের প্রধান কার্যালয়ে একটি আধুনিক সোলার প্যানেল টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। জার্মান প্রযুক্তির সান সিমুলেটরযুক্ত এই গবেষণাগারে সৌর প্যানেলের কার্যক্ষমতা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। বিএসটিআইয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করেন, নিরাপদ প্রযুক্তি ও পরিবেশ সুরক্ষার পাশাপাশি টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে মানসম্মত জ্বালানি ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। মানসম্মত পণ্য ও সেবার নিশ্চয়তা বিধানের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সফলভাবে এগিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।