রোহিঙ্গা ক্যাম্পের দুই পাহাড়ে হবে সেনা ক্যাম্প: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবির সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে উখিয়া ও টেকনাফের কৌশলগত দুটি পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প স্থাপনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় সভা শেষে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মূলত পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অপহরণ এবং অন্যান্য সন্ত্রাসী কার্যক্রম রোধ করতেই এই বিশেষ সামরিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের অধীনে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কাছাকাছি নোয়াখালীপাড়া এবং রঙ্গিখালী পাহাড়ি এলাকায় এই দুটি নতুন সেনা ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে ওই পাহাড়ি অঞ্চলগুলো অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছিল এবং সেখান থেকেই নিয়মিত নানা ধরনের অপরাধের ঘটনা ঘটত। সেখানে নিয়মিত সেনা উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ক্যাম্পের ভেতরের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বহুলাংশে উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, শিবিরের ভেতর এবং এর আশেপাশের এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে মাদক, অস্ত্র ও মানবপাচারের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের একজন ডিআইজির নেতৃত্বে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোও এই সমন্বিত কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। এছাড়া সীমান্ত পরিস্থিতি কিংবা যেকোনো জরুরি সংকট মোকাবেলার জন্য সেনাবাহিনীর একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের সার্বিক নির্দেশনায় কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা এসওপি নির্ধারিত রয়েছে।

ক্যাম্প এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদক ব্যবসা, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতাই বর্তমানে প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই অপরাধগুলো দমনের জন্য পুলিশ ও এপিবিএনের পাশাপাশি আইনি কাঠামোর পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এপিবিএনের তদন্ত ক্ষমতা বৃদ্ধি করায় চার শতাধিক সাব-ইন্সপেক্টর অপরাধের তদন্তে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া সংস্কার, সোলার লাইটিং স্থাপন, সিসি ক্যামেরা ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

পরিশেষে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান যে, এই জটিল সমস্যার সমাধানে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি কাজ করে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং জাতিসংঘের সক্রিয় মধ্যস্থতার মাধ্যমেই কেবল এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে সরকার মনে করে। দীর্ঘসময় ধরে ঝুলে থাকা এই সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের প্রচেষ্টায় খুব দ্রুতই এই পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আয়োজিত ওই বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।