রামগঞ্জে বিএনপির ২ নেতা বহিষ্কার

রাজনীতি ডেস্ক: লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ইউনিয়ন বিএনপির দুই ওয়ার্ড নেতাকে দল থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং মাদক কারবারে সহযোগিতার মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় বিএনপি নেতৃত্ব এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বহিষ্কৃত দুই নেতা উপজেলার চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন। তৃণমূল পর্যায়ে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

বহিষ্কৃত এই দুই নেতার বিরুদ্ধে মাদকের ব্যবসায় আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। গত অক্টোবর মাসের শুরুর দিকে এ সংক্রান্ত একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি দলের শীর্ষ মহলের নজরে আসার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ জারি করে ইউনিয়ন বিএনপি। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা নোটিশের জবাব দিলেও তা দলীয় শৃঙ্খলা কমিটির কাছে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হয়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউনিয়ন ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দের যৌথ বৈঠকে তাদের দল থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিকে একই অভিযোগে অভিযুক্ত ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান মনাকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি তার লিখিত জবাবে ঘটনার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেওয়ায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার না করে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

চণ্ডিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোয়েব পাটোয়ারী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দলের নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরই এই ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে পদ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের তৃণমূলে শৃঙ্খলা ও সুনাম রক্ষার্থে গৃহীত এই সাহসী পদক্ষেপে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।