রাকসুর মেয়াদ শেষ ভোট কবে ঠিক নেই

জাতীয় ডেস্ক: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর সচল হওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচিত কমিটির এক বছর মেয়াদের কার্যক্রম সম্প্রতি শেষ হয়েছে। গত বছর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির গণতান্ত্রিক চর্চা শুরু হয়েছিল। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হওয়ায় বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে নির্দিষ্ট সময়ে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো দৃশ্যমান প্রস্তুতি শুরু করা হয়নি। ফলশ্রুতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগামী নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও সংশয় তৈরি হয়েছে। প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভর্তি পরীক্ষা, ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিবেশ এবং আর্থিক হিসাব নিরীক্ষার মতো বিষয়গুলো নিয়ে বর্তমানে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্তৃপক্ষ। ফলে চলতি বছরেই পরবর্তী ছাত্র সংসদ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

সর্বশেষ গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেল বড় ধরনের বিজয় অর্জন করেছিল। নির্বাচনের আগে বিজয়ী প্রার্থীরা নিয়মিত প্রতি বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত এক বছর সময় পার হয়ে গেলেও নতুন নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে বিদায়ী কমিটির সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে। একদল শিক্ষার্থী নিয়মিত নির্বাচন আয়োজনের দাবি তুললেও অন্য একটি অংশ বিদায়ী কমিটির ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উত্থাপন করছে। এর ফলে ক্যাম্পাসের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিদায়ী কমিটির মূল্যায়ন নিয়ে যেমন আলোচনা চলছে, তেমনই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।

বিদায়ী কমিটির সহসভাপতি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বর্তমান প্রশাসনের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর মতে, পূর্ববর্তী প্রশাসনের তুলনায় বর্তমান প্রশাসন ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে তেমন কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থেকে প্রশাসন দায়সারা মনোভাব প্রদর্শন করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এমনকি ভবিষ্যতে এই ছাত্র সংসদ নির্বাচন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। অন্যদিকে রাকসুর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান জানিয়েছেন যে নির্বাচন আয়োজনের জন্য যে ধরনের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এই মুহূর্তে প্রশাসনের নেই। উপাচার্যের পক্ষ থেকেও নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা বা বার্তা এখনো পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে না দিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান যে ক্যাম্পাসের পরিবেশ-পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে চলতি বছরে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাবনা খুবই কম বলে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন যে বর্তমানে তাদের সামনে ভর্তি পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। ভর্তি পরীক্ষার ব্যস্ততা শেষ না করে এত বড় একটি নির্বাচন আয়োজন করা অত্যন্ত দুরূহ একটি ব্যাপার। এছাড়া পূর্ববর্তী হিসাব-নিকাশ অডিট বা নিরীক্ষা না করে তফসিল ঘোষণার কোনো সুযোগ নেই বলেও উপাচার্য স্পষ্ট করে জানিয়েছেন।