মামলায় আসামি করায় ‌‘হৃদরোগে’ মৃত্যু, মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে মামলার আসামি করায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার বিকেলে উপজেলার বাঙালীপুর ইউনিয়নের আমজাদের মোড়ে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও স্থানীয়রা সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ করেছেন।মারা যাওয়া ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধে প্রতিপক্ষর বসতবাড়িতে নিজেরাই আগুন লাগিয়ে মোসলেম সরদারের (৬০) বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। এ কারণে মানসিকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। এর বিচার দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে মামলার বাদীর আবদুল আজিজ জোতদারের ভাষ্য, মোসলেম সরদারের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। উল্টো বসতঘর পুড়ে সর্বস্ব হারিয়ে তারা এখন নিঃস্ব।

সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন- সৈয়দপুর জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক শাহিদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আলমগীর হোসেন, নিহত ব্যক্তির ছোট ভাই তসলিম সরদার, ভাতিজা বাবলু সরদার, নাতি মেহেদী হাসান, গৃহবধূ মৌসুমী ও স্থানীয় জহুরুল শেখ।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে এলাকার মোসলেম সরদারের পরিবার ও বাছান জোতদার পরিবারের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত ১৪ ও ১৫ মে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা বিষয়টি নিয়ে মীমাংসায় বসেন। উভয় পক্ষের কাগজপত্র দেখে একটা সমাধানে আসেন তারা। কিন্তু ১৮ মে মৃত বাছান জোতদারের ছেলে আবদুল আজিজ ও তার ভাইয়ের বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে আবদুল আজিজ বাদী হয়ে মোসলেম সরদারসহ তার পরিবারের ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযোগটি একতরফা তদন্ত করে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। এতে মোসলেম সরদার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। এমন অবস্থায় তিনি তিন দিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং শনিবার সকালে মারা যান।মৃতের ছোট ভাই তসলিম সরদারের দাবি, তার ভাইয়ের আগে কোনো রোগ ছিল না। মিথ্যে মামলায় আসামি করায় তিনি খুবই কষ্ট পেয়েছেন এবং দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয়ে পড়েছিলেন। সেকারণে হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে।মামলার বাদী আব্দুল আজিজ জোতদার বলেন, মামলা সত্য না মিথ্যা তা আদালতে প্রমাণ হবে। একটি স্বাভাবিক মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলা হচ্ছে। অথচ তাদের লাগানো অগ্নিকাণ্ডে এখন আমরা নিঃস্ব। তিনি এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সঠিক বিচার চান।