ভোটের আগের রাতে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, টাকা বিতরণের দাবি

রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের আগের রাতে নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর মতো গুরুতর সব অভিযোগ উঠেছে। ভোটগ্রহণের ঠিক আগমুহূর্তে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা পৃথক সংবাদ সম্মেলন করে একে অপরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষই নির্বাচনী মাঠে নিজেদের প্রার্থী ও কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করার দাবি জানিয়েছে।

জামায়াতের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বিকেলের দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন যে, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই তাঁদের প্রচারে দফায় দফায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, প্রতিপক্ষের লোকজন ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন এবং বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধার লোভ দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। এ ছাড়া ভোটের আগের রাতে নগদ অর্থ বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করার অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে একাধিকবার অভিযোগ করা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে তাঁর অভিযোগ।

অন্যদিকে রাতেই জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ পুরোপুরি নাকচ করে দেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকরা প্রথম থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও উসকানিমূলক প্রচারণা চালিয়ে আসছে। নির্বাচনের পরিবেশ প্রশ্নবিদ্ধ করতেই এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি উল্টো অভিযোগ করেন যে, প্রতিপক্ষের লোকজন সংখ্যালঘু ও আদিবাসী ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফয়সল আমীন আরও জানান যে, নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা হচ্ছে এবং তাঁরা সবসময় জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে যেকোনো মূল্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার ওপর তিনি জোর দেন। ভোটের দিনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর তালিকা নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। সব দলের প্রার্থীরাই শেষ পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।