ভল্টের টাকা আত্মসাৎ: ব্যাংক কর্মকর্তাসহ দুজনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অপরাধ ডেস্ক: রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে গরুর খামার গড়ে তোলার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া পৃথক আরেকটি ঘটনায় সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক এসব ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও ব্যাংকের অর্থ লোপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘির পাড় পূর্ব করপোরেট শাখার ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। দুদকের চট্টগ্রাম-১ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আল আমিন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। এই মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ও ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন এবং তাঁর সহযোগী ব্যবসায়ী মোড় জাফরুল্লাহ তানভীরকে। ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে থাকার সুযোগ নিয়ে ব্যাংকের হিসাব কৌশলে নিয়ন্ত্রণ করতেন প্রধান আসামি।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট একটি সময়সীমার মধ্যে বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ভল্ট থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়। আত্মসাৎকৃত এই অর্থ চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার উত্তর বুড়িশ্চর এলাকায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামের একটি গরুর খামার নির্মাণে বিনিয়োগ করা হয়েছিল। খামার পরিচালনার পুরো দায়িত্বে ছিলেন কামরুলের সহযোগী জাফরুল্লাহ তানভীর। পরবর্তীতে ব্যাংক লেনদেন মিলানোর সময় ভল্টে বড় ধরনের ঘাটতি ধরা পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয় এবং অভিযুক্তদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

এদিকে অপর একটি ঘটনায় সরকারের ১ কোটি ১২ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ এবং রেলওয়ের জমি অবৈধভাবে দখলের দায়ে মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১ মিরসরাই আসনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উর রহমান রুহেলের বিরুদ্ধে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এ মামলাটি দায়ের করেন উপসহকারী পরিচালক তাপছির বিল্লাহ। অভিযুক্ত সাবেক সংসদ সদস্য প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে।

দুদকের এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কারখানা স্থাপনের জন্য রেলওয়ের জমি দীর্ঘমেয়াদি ইজারার আবেদন করা হলেও তা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সরকারি সম্পত্তি জবরদখল করা হয়। দখলকৃত জমিতে আধা পাকা কারখানা ও দ্বিতল অফিস ভবন নির্মাণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসব ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মিললে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।