বিয়ে নিবন্ধনে কাজীর সন্তানদের সরাসরি নিয়োগের দাবি

জাতীয় ডেস্ক: নিকাহ্ নিবন্ধক বা কাজীদের চাকরির বয়সসীমা শেষ হলে কিংবা মৃত্যুজনিত কারণে খালি হওয়া পদে কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই তাদের সন্তানকে সরাসরি নিয়োগ দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকার সেগুনবাগিচায় অবস্থিত ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এই দাবি উত্থাপন করেন দেশের নিকাহ্ নিবন্ধক খাতের বিভিন্ন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। বাংলাদেশ কাজী সমিতির উদ্যোগে শহীদ জিয়ার কর্মময় জীবন ও ওলামা মাশায়েখদের মর্যাদা শীর্ষক ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা কাজীদের পেশাগত সুরক্ষা ও জীবনমান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কাজীরা সভায় অংশ নিয়ে তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন।

সভায় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের মুখপাত্র ও মুসলিম নিকাহ্ রেজিস্ট্রার কল্যাণ পরিষদের সভাপতি কাজী ছাব্বীর বলেন, বিদ্যমান নিয়মে কাজীর সন্তানদের চাকরির জন্য ইন্টারভিউ বা সাক্ষাত্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হয়। তবে তাদের দাবি হলো, সন্তান পাস করুক কিংবা ফেল করুক, কাজী অভিভাবকদের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তাদের সরাসরি ওই পদে নিয়োগ দিতে হবে। মূলত পারিবারিক উত্তরাধিকার ও পেশাগত ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্যই এই বিশেষ সুবিধা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা। বক্তারা মনে করেন, দীর্ঘদিন ধরে যারা এই পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাদের সন্তানদের উপযুক্ত মূল্যায়ন করা সরকারের দায়িত্ব। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করা হলে কাজীদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে বলে তারা মনে করেন।

বিয়ে নিবন্ধনের নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করা হলে তা যেন কাজীদের স্বার্থের পরিপন্থী না হয়, সে বিষয়েও সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেছেন নেতারা। জাতীয় নিকাহ্ নিবন্ধক ঐক্যজোটের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ কাজী সমিতির সভাপতি কাজী ড. এ এস এম কাদের কিবরিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নতুন কোনো নীতিমালা আসলে কাজীদের অধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হতে পারে। বর্তমান সরকার হতদরিদ্র মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, সেক্ষেত্রে কাজীদের পেশাগত ও আর্থিক নিরাপত্তা কেন বিঘ্নিত হবে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী আলেম সমাজ ও কাজীদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না যাতে কোনো পেশাজীবী ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাই সবাইকে গুজবে কান না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় একটি নির্দিষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার বা এনজিওর বিরুদ্ধে কাজীদের অধিকার খর্ব করার ষড়যন্ত্রের গুরুতর অভিযোগ তোলেন নেতারা। বাংলাদেশ ইউনিয়ন নিকাহ রেজিস্ট্রার কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও ঐক্যজোটের সদস্যসচিব কাজী মোজাম্মেল হোসাইন জানান, বিভিন্ন উপজেলায় সালিশি বৈঠকের নামে কাজীদের কাছ থেকে স্বাক্ষর নেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে সেই স্বাক্ষরগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে দাবি করা হচ্ছে যে কাজ ও সাংবাদিকরাসহ সবাই ওই ব্যবস্থার সঙ্গে একমত। ডিজিটাল ব্যবস্থার আড়ালে কাজী পেশাকে হেয় প্রতিপন্ন বা হয়রানি করার যে কোনো চেষ্টা কঠোর হাতে প্রতিহত করার ঘোষণা দেন তারা। নিজেদের অধিকার আদায়ে পেশাজীবীদের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ তৈরি না করে সম্মিলিতভাবে সরকারের কাছে দাবি পেশ করার ওপর জোর দেন বক্তারা।