বিএনপির মুখে জুলাই, অন্তরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ: হাসনাত আব্দুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে নতুন এক রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় তিনি দাবি করেন যে, বিএনপির মুখে জুলাইয়ের কথা শোনা গেলেও তাদের মননে এখনো কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতি প্রীতি রয়ে গেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের পর দলটির এমন পরস্পরবিরোধী আচরণ সাধারণ মানুষকে চরম হতাশা ও অস্বস্তির মধ্যে ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ বর্তমান বিএনপিতে দুটি ভিন্ন ধারার উপস্থিতি লক্ষ্য করেছেন বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম ধারাটি হলো দীর্ঘ দেড় থেকে দুই দশক ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করে নিপীড়ন ও কারাবরণের শিকার হওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে গঠিত। অন্যদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি সুযোগসন্ধানী অংশ নতুন করে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করেছে। এই চক্রটি মূলত আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে আঁতাত করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী মামলা বাণিজ্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নেতা বলেন যে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ঢালাওভাবে শত শত মানুষের নাম দিয়ে মামলা দায়ের করা হচ্ছে। পরবর্তীতে আসামিপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এসব মামলা দফারফা করা হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। প্রকৃত অপরাধীদের রক্ষা করতেই মামলার চার্জশিট প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন এবং দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিলের দাবি জানান।

অভিযোগের শেষ পর্যায়ে হাসনাত আব্দুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একটি পক্ষ আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া, বিতর্কিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সম্পদ দখল, বালুমহাল ও বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত রয়েছে। অবিলম্বে জুলাই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে চার্জশিট দেওয়া না হলে বিএনপিকে এই অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক আঁতাতের দায়ভার নিতে হবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।