নওগাঁ ও পাবনায় ডাকাতির ঘটনায় ডাকাত দলের ৬ সদস্য গ্রেফতার

মির্জা তুষার আহমেদ,নওগাঁ নওগাঁর পত্নীতলায় রাস্তায় গাছ ফেলে বিভিন্ন পরিবহনে ডাকাতির সঙ্গে জড়িত
আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গতকাল নওগাঁ সহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি জেলায় নওগাঁ জেলা পুলিশ অভিযান চালিয়ে জয়পুরহাট, গাইবান্ধা ও বগুড়া থেকে গ্রেফতার করেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র একটি মাইক্রোবাসহ লুণ্ঠিত মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সোমবার (০৩ মার্চ) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে জেলা পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১ টায় নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় পাকা রাস্তার ওপর ডাকাত সদস্য গাছ কেটে রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সাপাহার গামী বিআরটিসি বাস সহ বিভিন্ন যানবাহন আটকিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে বাসের জানালা ভেঙে স্বর্ণের চেন, মোবাইল ফোন, এবং নগদ টাকা লুট করে নেয়, পরে সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, (১)মোঃ শামীম ইসলাম সব্দুল (২৭), পিতা-মুজিবুর রহমান, (২) শ্রী রঞ্জিত চন্দ্র বর্মন (৩০), পিতা-অরুণ চন্দ্র বর্মন, (৩) মোঃ আব্দুল লতিফ ওরফে নাঈম (২৭), পিতা-মোঃ লুৎফর রহমান,উভয় কালাই থানার জয়পুরহাট জেলা, (৪) মোঃ শাহারুল ইসলাম (৩৭), পিতা-মনসুর বেপারী, (৫) মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪০), পিতা-মোঃ মফিজ উদ্দিন, উভয় গোবিন্দগঞ্জ থানা গাইবান্ধা জেলা এবং (৬) মোঃ শাহাদাত হোসেন (৪০), পিতা-মোঃ খোরশেদ আলী, উভয় থানা-কাহালু, বগুড়া জেলা। গত (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পাবনা জেলার সাঁথিয়ায় কয়েকটি যানবাহনে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। উক্ত ঘটনায় গ্রেফতারকৃত এই ৬ জনের মধ্যে পাঁচজনই জড়িত ছিল বলে তারা পুলিশের কাছে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। তাদের মধ্যে শহিদুল এর বিরুদ্ধে ছয়টি, শাহরুলের বিরুদ্ধে দুইটি, শামীমের বিরুদ্ধে দুইটি এবং অন্যান্যদের বিরুদ্ধে একটি করে ডাকাতির মামলা রয়েছে। পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার বলেন, গ্ৰেফতারের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত করাত, কয়েকটি হাসুয়া, একটি প্লাস এবং একটি মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়েছে। পত্নীতলায় বিআরটিসি বাসে ডাকাতির লুন্ঠিত একজোড়া কানের দুল ও কয়েকটি মোবাইল, এবং পাবনায় ডাকাতির লুণ্ঠিত একটি ল্যাপটপ একটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ডাকাতদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গাজীউর রহমান, ফারজানা হোসেন, পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েতুর রহমান ও জেলার প্রিন্ট-ইলেকট্রিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।