রাজনীতি ডেস্ক: ঠাকুরগাঁও পৌর এলাকার জগথা মহল্লায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের প্রভাবশালী একাধিক নেতার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে সরকারি সার ডিলারশিপের ব্যবসা পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি জেলার সার ডিলারদের তালিকা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় অন্তত নয়জন নেতার স্ত্রী এবং চারজন সন্তানের নামে এই লাইসেন্স বরাদ্দ করা হয়েছে। অথচ এর আগে এই পরিবারগুলোর সদস্যদের কখনো সার বা এই ধরনের কোনো ব্যবসা পরিচালনার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিগত দিনে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই সার ব্যবসার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের একটি গোপন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছিল। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপির এই নেতারা নিজেদের পারিবারিক বলয়কে শক্তিশালী করতে এবং অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত করতে স্ত্রী ও সন্তানদের নামে ডিলারশিপ বাগিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ কৃষকরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের জোরে হঠাৎ করে লাইসেন্স পাওয়ায় প্রকৃত ও অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
সার ব্যবসায় নতুন মুখ হিসেবে এই স্বজনদের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও মাঠপর্যায়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কৃষিজীবী ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। কৃষকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের স্বজনরা ডিলারশিপ পাওয়ায় ভবিষ্যতে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট কিংবা সিন্ডিকেটের আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না। অতীতেও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় সার ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বহু নজির রয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত কৃষকদের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়াত।
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের দাবি, নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় এবং বৈধভাবে আবেদন করেই তাদের পরিবারের সদস্যরা এই ডিলারশিপের লাইসেন্স পেয়েছেন। এতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়নি বলে তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও স্থানীয় সচেতন মহলে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ মানুষ বলছেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট তৈরি হলে এর খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ কৃষকদেরই দিতে হবে।